• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ৭ চৈত্র ১৪২৫, ১৩ রজব ১৪৪০

সিএনজি অটোরিকশার নৈরাজ্য বন্ধে ব্যবস্থা নিন

| ঢাকা , শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ঢাকা মহানগরীতে চলাচলরত অটারিকশার ৯৮ শতাংশ চুক্তিতে চলে। মাত্র ২ শতাংশ অটোরিকশা মিটারে চলে। আর ৮৮ শতাংশ অটোরিকশা যাত্রীদের চাহিদামতো গন্তব্যে যেতে রাজি হয় না। মিটারে চলাচলকারী অটারিকশার ৯২ শতাংশ ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত মিটারের অতিরিক্ত ভাড়া বা বকশিশ দাবি করে। তবে বৃষ্টি বা সরকারি ছুটির আগের দিন অথবা গণপরিবহন সংকটকালীন এ বকশিশের পরিমাণ ১০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। যাত্রীদের গন্তব্যে যেতে রাজি হয় না ৮৮ শতাংশ অটোরিকশা।

রাজধানীতে ২০০২ সালের শেষদিক থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল শুরু হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে প্রায় ১৩ হাজার অটোরিকশার নিবন্ধন দেয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। শুরুতে এই অটোরিকশাগুলোর আয়ুষ্কাল (ইকোনমিক লাইফ) ছিল ৯ বছর। কিন্তু মালিকপক্ষের দাবির মুখে এগুলোর মেয়াদ তিন দফা বাড়িয়ে ১৫ বছর করা হয়। যাত্রী ভাড়া পাঁচবার এবং জমা (ভাড়া হিসেবে চালকদের কাছ থেকে মালিকপক্ষ যে টাকা নেন) বাড়ানো হয় তিন দফা। এমন সুবিধা দেয়ার পরও অটোরিকশা খাতটি বিশৃঙ্খলই থেকে যায়।

অটোরিকশা মিটারে না যাওয়ার বিষয়টি বহু বছর ধরে চলছে। এটা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বা নিয়মের মধ্যে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা আজ পর্যন্ত নেয়নি। শুরু থেকে যদি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নিত, তাহলে আরও আগে এ সমস্যার সমাধান হতো। ব্যবস্থা না নেয়ার ফলে অনিয়ম নিয়মে পরিণত হয়েছে। এ খাতে যাত্রীস্বার্থ কখনই প্রাধান্য পায়নি। অটোরিকশাগুলো যাত্রীর ইচ্ছামতো গন্তব্যে মিটার অনুযায়ী চলাচল করবেÑ এটাই আইন। কিন্তু এক্ষেত্রে আইন মানার কোনো বালাই নেই। মাঝে মধ্যে লোক দেখানোর জন্য অভিযান চালানো হয়।

এ সংকট নিরসনে ৭ দফা সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। এগুলো হল- ঢাকা ও চট্টগ্রাম উভয় মহানগরীতে ২০ হাজার করে ৪০ হাজার নতুন অটারিকশা নামানো, গণমালিকানার পরিবর্তে কোম্পানিভিত্তিক অথবা অ্যাপসভিত্তিক অটোরিকশা পরিচালনা, মিটারবিহীন ও প্রাইভেট অটোরিকশা চলাচল বন্ধ, জমা ও ভাড়া বৃদ্ধি, সিলিং নির্ধারণ, মনিটরিং কমিটিতে যাত্রীসাধারণের প্রতিনিধিত্ব রাখা, নীতিমালা লঙ্ঘন করে চলাচলকারী অটোরিকশা এক বছর আটক রাখা, আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মুনাফা সরকার কর্তৃক নির্ধারণ, নতুন অটোরিকশা নিবন্ধনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ও অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করা।

আমরা মনে করি, সুপারিশগুলো যুক্তিসম্মত। যাত্রীস্বার্থ রক্ষার্থে সরকার সুপারিশগুলো আমলে নিতে পারে। সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে সিএনজি অটোরিকশার নৈরাজ্য বন্ধ হতে পারে।