• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০, ১৫ চৈত্র ১৪২৬, ২৯ রজব সানি ১৪৪১

সাংবিধানিক পদগুলোতে যোগ্য ও নিরপেক্ষদের নিয়োগ দিতে হবে

| ঢাকা , সোমবার, ০৭ অক্টোবর ২০১৯

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন উচ্চপদস্থ আমলাদের ‘রিটায়ারমেন্ট হোম’-এ পরিণত হয়েছে। গত শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা একথা বলেন। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে আমলাদের নিয়োগ দেয়া হলে তারা মূল স্পিরিট অনুযায়ী কাজ করতে পারেন কিনা সেই প্রশ্নও উঠেছে। দেশের গণমাধ্যমগুলো গত রোববার এ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সাবেক এক আমলাকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান করার পর থেকে এ সাংবিধানিক পদের নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। দেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, মানবাধিকার নিয়ে কোন জ্ঞান বা কর্মকা- নেই এমন লোককে চেয়ারম্যান করা হয়েছে।

আমরা লক্ষ্য করেছি, শুধু মানবাধিকার কমিশনই নয়, অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানেও আমলাদের নেতৃত্ব নিশ্চিত করা হয়। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সরকারের কাজকে চ্যালেঞ্জ করা। কিন্তু দেশের কোন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান আজ পর্যন্ত সরকারের কোন কাজকে চ্যালেঞ্জ করেছে বলে জানা যায় না। এর বড় একটি কারণ হচ্ছে, এসব প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে যারা রয়েছেন তারা দশকের পর দশক ধরে সরকারগুলোর আজ্ঞা পালন করেছেন। আজ্ঞাবাহী অনুগত আমলাদেরই খুঁজে খুঁজে সাংবিধানিক পদে বসানো হয় যাতে করে সরকারকে কোন বিপাকে পড়তে না হয়।

আজ্ঞাবাহীর দায়িত্ব পালনকালে সরকারকে কোন বিপাকে ফেলেন না ঠিকই তবে বিপাকে পড়ে যায় মানবাধিকার, সুশাসন এবং ন্যায়বিচার। সরকারের বিভিন্ন অংশ যখন অন্যায় করে তখন এসব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সেই অন্যায় সহে। সাংবিধানিক পদে যারা থাকেন তারা সরকারি বাড়ি-গাড়ি ব্যবহার করেন, বিদেশ সফর করেন। অবসরপ্রাপ্ত আমলারা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাস্তবিকই অবকাশ যাপন করেন।

মূলত সরকারের আমলা নির্ভরতার কারণেই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানেও তারা নিয়োগ পাচ্ছেন। এক্ষেত্রে কোন যোগ্যতা, দক্ষতা বা কর্ম অভিজ্ঞতার প্রয়োজন পড়ছে না। আমরা বলতে চাই, মানবাধিকার কমিশনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে যোগ্য ও দক্ষদের নিয়োগ দিতে হবে। এমন ব্যক্তিকে কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট পদগুলোতে নিয়োগ দিতে হবে যিনি বা যারা দলীয় আনুগত্যের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করবেন। এর ফলে সরকারের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে। গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে। কোন গণতান্ত্রিক সরকার তার কাজে জবাবদিহি করতে দ্বিধা করে না। যাদের কাজে স্বচ্ছতা আছে তারা কখনোই মানবাধিকার কমিশন বা এ ধরনের কোন কমিশনে কে বা কারা নিয়োগ পেল সেটা নিয়ে ভীত থাকবে না। যোগ্য ও নিরপেক্ষ না হলে মানবাধিকার, সুশাসন বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কাজ সুসম্পন্ন করা যায় না। জি হুজুর মার্কা আজ্ঞাবাহীরা দুর্নীতিকেই জিইয়ে রাখে। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের উপলব্ধি করতে হবে।