• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০, ২৭ আষাঢ় ১৪২৭, ১৯ জিলকদ ১৪৪১

শিক্ষা প্রশাসনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নানা সমস্যা আর জটিলতায় শিক্ষা খাত জর্জরিত হয়ে পড়েছে। শিক্ষা প্রশাসন এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর কোন ভূমিকা রাখতে পারছে না। সম্প্রতি দেশের একাধিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সৃষ্ট জটিলতা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে দৃশ্যমান করেছে। নিয়মিত ভিসি না থাকা, ভিসি নিয়োগে দলবাজি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি, শিক্ষার্থী নিপীড়ন প্রভৃতি সমস্যার কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অচল হয়ে পড়েছে। কোন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ন্যূনতম চেষ্টাও চোখে পড়ে না। এ নিয়ে দেশের গণমাধ্যমগুলো প্রতিদিনই সংবাদ প্রকাশ করছে।

শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট শুধু গুটিকয়েক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোও নানা সমস্যায় জর্জরিত। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না। তাদের এখনও নিজস্ব ক্যাম্পাসে নেয়া যাচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুুরি কমিশন (ইউজিসি) অথর্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ইউজিসিকে উচ্চশিক্ষা কমিশনে পরিণত করার কাজে অগ্রগতি নেই। একই ভাবে আটকে আছে শিক্ষা আইন। শিক্ষানীতি প্রণয়নের পর প্রায় এক দশক সময় পার হলেও আইন করা হয়নি। আইনের অভাবে শিক্ষানীতির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। মাঝে এমপিভুক্তির দাবিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা আন্দোলন করেছেন। এমপিওভুক্তির বিষয়ে কোন অগ্রগতির কথা জানা যায় না। কোচিং-প্রাইভেট বন্ধ করা যায়নি। নোট-গাইডের বাণিজ্য চলছেই। প্রাথমিক শিক্ষা স্তর অষ্টম শ্রেণীতে উন্নীত করা হয়নি। পিএসসি, জেএসসি পরীক্ষার জগদ্দল পাথর সরানো হয়নি। সব মিলিয়ে শিক্ষা খাতে কোন সুখবর নেই বললেই চলে। এসএসি এবং এইচএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস না হওয়ার ঘটনা ব্যতিক্রম।

নিয়ন্ত্রণহীন শিক্ষা ব্যবস্থা দেশের জন্য একটি অশনিসংকেত। বিশৃঙ্খল শিক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও অগ্রগতি সাধন করা সম্ভব হবে না। যে কোন মূল্যে শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সবার আগে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উদ্ভূত সংকট নিরসন করতে হবে। অযোগ্য ভিসিদের সরিয়ে যোগ্যদের হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব ন্যস্ত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও নিয়মের মধ্যে আনতে হবে। শিক্ষা খাতের সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা চাই না, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের শৈথিল্য বা গাফিলতিতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাক।