• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬, ১৮ রবিউস সানি ১৪৪১

শান্তিচুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করুন

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯

পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর ২২ বছর পার হয়েছে গতকাল। শান্তিচুক্তি পার্বত্য এলাকায় কতা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়েও রয়েছে বিতর্ক। সরকার চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যাপক সাফল্য দাবি করছে। পার্বত্য এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করার দাবি করা হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক এবং আঞ্চলিক পরিষদ গঠন করা, ভূমি কমিশন গঠন, পাহাড়িদের পুনর্বাসন, চাকরি প্রদান প্রভৃতি ক্ষেত্রে সরকারের সফলতা দাবি করছে। অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা বলেছেন, ২২ বছরেও চুক্তি বাস্তবায়ন করা হয়নি। তিনি বলেন, চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৪৮টি ধারা সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের যে প্রচার চালানো হচ্ছে তা ভিত্তিহীন।

শান্তিচুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো যে এখনও বাস্তবায়ন করা হয়নি সেটি দিবালোকের মতো স্পষ্ট। পাহাড়ে সংঘাত-সংঘর্ষের মূল কারণ হচ্ছে ভূমি। কিন্তু ভূমি বিরোধ নিরসনে এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন এখনও শুনানির কাজই শুরু করেনি। পাহাড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বা সেখানকার উন্নয়ন সব কিছুই ভূমির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ভূমি ব্যবস্থাপনা জেলা পরিষদের হাতে ন্যস্ত করার কাজ সম্পন্ন হয়নি। ভূমি বিরোধের কার্যকর সমাধান না করে সরকার পাহাড়ে উন্নয়ন কর্মকা- চালাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন যে, মূল ইস্যু থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়ার জন্যই তথাকথিত উন্নয়ন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। উন্নয়ন কার্যক্রমের ফলে পাহাড়িদের ভেতর আস্থা জন্মানোর পরিবর্তে সন্দেহ-সংশয় দেখা দিয়েছে।

পার্বত্য এলাকায় সংঘাত-সহিংসতা লেগেই আছে। গত রোববার রাঙ্গামাটিতে জনসংহতি সমিতির এক নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। শান্তিচুক্তির বিরোধীরা শুরু থেকেই এ চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে পাহাড়ে সংঘাত-সংঘর্ষ চালাচ্ছে। চুক্তির পক্ষের শক্তিও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়ায় হতাশ। তারা বারবারই সরকারকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে যে, চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হলে পাহাড়ের পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠবে।

শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার শান্তিচুক্তি করেছিল ১৯৯৭ সালে। মাঝে বিএনপি-জামায়াত ও জরুরি অবস্থার সরকারের ৭ বছর বাদ দিলে আওয়ামী লীগ সরকার চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য ১৫ বছর সময় পেয়েছে। আমরা মনে করি, চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য এ সময় যথেষ্ট। কিন্তু চুক্তি বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ সরকার বা দলটির নীতিনির্ধারকদের আন্তরিকতা নিয়ে বারবারই প্রশ্ন উঠেছে। শান্তিচুক্তির ধারণার বিরোধী বলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়ার অভিযোগও বিভিন্ন সময় মিলেছে। আমরা মনে করি, শান্তিচুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা বর্তমান সরকারের অপরিহার্য দায়িত্ব। চুক্তির প্রতিটি ধারা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে। সব সমস্যার আগে ভূমি সমস্যার সমাধান করা জরুরি। চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ছাড়া পাহাড়ে শান্তি টেকসই করা যাবে না।

ধারাবাহিকভাবে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে পার্বত্য মানুষজনের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হলেই পার্বত্য অঞ্চলে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।