• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২০, ৯ জিলহজ ১৪৪১, ৩১ জুলাই ২০২০

শহরাঞ্চলে নারী কর্মসংস্থানের তুলনামূলক হ্রাস, বিষয়টি উদ্বেজনক

| ঢাকা , বুধবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

গ্রামের তুলনায় শহরে কর্মজীবী নারীর হার কমেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫-১৭ সালে গ্রাম এলাকার শ্রমজীবীদের মধ্যে ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ ছিল নারী। শহরে এ হার ছিল ৩১ শতাংশ। অবশ্য সামগ্রিকভাবে অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার একটি জাতীয় দৈনিক বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

দেশকে কাক্সিক্ষত গতিতে এগিয়ে নিতে হলে জাতীয় অর্থনীতিতে নারীর শ্রম যুক্ত করার বিকল্প নেই। নারীর নিজের মুক্তির জন্যও অর্থনৈতিক কাজে যুক্ত হতে হবে। দেখা গেছে, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী নারী নিজ পরিবার ও সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচে। জাতীয় অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে এটা আনন্দের কথা। গ্রামের নারীরা কর্মক্ষেত্রে শহরের নারীদের চেয়ে এগিয়ে আছে সেটা এক অর্থে সুখকর। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, শহরের নারীরা তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে পড়ছে কেন। সাধারণত শহরের নারীরা উচ্চশিক্ষায় গ্রামের নারীদের চেয়ে এগিয়ে থাকেন। দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে বেশ কয়েক বছর ধরে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা ভালো ফল অর্জন করছে। নারীর শিক্ষা গ্রহণের গ্রাফটা যেমন ঊর্ধ্বমুখী, কাজের ক্ষেত্রে তার আশানুরূপ প্রতিফলন ঘটছে না। এখনও অনেক পরিবার মেয়ে সন্তানকে লেখাপড়া শেখালেও তাকে কর্মক্ষেত্রে প্রবশ করতে দেয় না। আবার শিক্ষিত অনেক নারী কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করলে একপর্যায়ে নানা কারণে ঝরে পড়ছেন।

আবার কাজ করতে ইচ্ছুক এমন অনেক নারীই কাজে যাচ্ছেন না। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর দায় রয়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও নারীদের জন্য কাজের পর্যাপ্ত সুযোগ এবং নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ তৈরি করতে প্রস্তুত নয়। শুধু গার্মেন্টসগুলোতে নারীকর্মীর সংখ্যাধিক্য রয়েছে। মূলত কম বেতনে বেশি কাজ করানো যায় বলেই গার্মেন্টস কারখানার মালিকরা নারী শ্রমিক নিয়োগ দেন। প্রসঙ্গত বলা যায়, শহরে অবস্থিত গার্মেন্টসগুলোতে যেসব নারী শ্রমিক কাজ করেন তারা মূলত গ্রাম থেকেই এসেছেন। বিষয়টি হিসাবে আনলে দেখা যাবে যে, কর্মজীবী নারীদের মধ্যে প্রকৃত শহুরে নারীর হার আরও অনেক কম।

শিক্ষিত নারীদের বড় একটি অংশকে কর্মক্ষেত্রে যুক্ত করতে না পারার বিষয়টি হতাশাজনক। আমরা চাই, দেশের প্রতিটি নাগরিক দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কাজে অংশ নিক। একজন নারী তার শিক্ষা, মেধা আর শ্রম নিয়ে জাতি গঠনের কাজে যুক্ত হোক। এজন্য সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানকে নিজ নিজ জায়গা থেকে নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। কর্মপরিবেশ যেন নারীবান্ধব হয়, নারীকর্মী যেন কোন ধরনের বৈষম্যের শিকার না হন সেটা নিশ্চিত করাও জরুরি।