• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ মহররম ১৪৪১

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মায়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে

| ঢাকা , বুধবার, ১২ জুন ২০১৯

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে সব দেশ সম্মত হলেও মায়ানমারের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে চুক্তি করা হয়েছে, সব রকমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, মায়ানমার ফিরিয়ে নিতে আগ্রহী নয়। রোহিঙ্গাদের সহায়তাকারী আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোও এ বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। গত রোববার গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট হলো যে, রোহিঙ্গা সংকট সহসাই কাটছে না এবং সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক মহল যেহেতু উদাসীন, আরও অনেকটা সময় বাংলাদেশকেই এ ভোগান্তি পোহাতে হবে। অবশ্য রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মায়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ যেসব শর্তে চুক্তি সই করেছিল, তাতে এ চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে শুরু থেকেই আমরা সংশয় প্রকাশ করে আসছি। রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে নীতি ও অবস্থান পরিবর্তনে যেহেতু মায়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ প্রয়োগ করা যায়নি, চুক্তি করলেও শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে তারা যে আগ্রহী হবে না, সেটাই দিনে দিনে স্পষ্ট হচ্ছে।

এটা এখন অনেকটাই পরিষ্কার যে রোহিঙ্গা ইস্যুতে যখন আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে শুরু করেছিল, তখনই মায়ানমার বাংলাদেশের সঙ্গে কার্যত তাদের শর্তে একটি প্রত্যাবাসন চুক্তি করে। কৌশলগতভাবে এতে মায়ানমারের লাভ হয়েছে। কারণ, এই চুক্তি তাদের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের চাওয়া শরণার্থী প্রত্যাবাসন কতটুকু সফল হবে, তা এক বিরাট প্রশ্ন।

শুরু থেকেই আমরা বলে আসছি যে রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে মায়ানমার সরকার তাদের অবস্থান পরিবর্তন না করলে বা সে ব্যাপারে দেশটিকে বাধ্য করতে না পারলে শরণার্থীদের ফেরত পাঠানো কঠিন হবে। দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ ইউএনএইচসিআর ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাকে নানা প্রক্রিয়া ও কাজে যুক্ত করলেও মায়ানমার সে ধরনের কিছু করছে না বা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে রাখাইন রাজ্যে প্রবেশ ও কাজ করার অনুমতি দিচ্ছে না।

বাংলাদেশ বিভিন্ন সময়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে মানবিক কারণে। রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানের ক্ষেত্রে যে মূল চেতনাটি গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া সব রোহিঙ্গার রাখাইনে নিরাপদ প্রত্যাবাসন ও বসবাস নিশ্চিত করা। রোহিঙ্গারা যে ধরনের বর্বরতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে এসেছে, তাদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরা নিশ্চিত করতে হলে তাদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি। এ জন্য জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর রাখাইন রাজ্যে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

চুক্তি অনুযায়ী প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার চেষ্টার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মায়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। অব্যাহত ও কঠোর চাপ ছাড়া মায়ানমার যে কাজের কাজ কিছু করবে না, তা অনেকটাই পরিষ্কার।