• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০, ১৪ জিলহজ ১৪৪১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭

কথার কথা অনেক হয়েছে

রাজধানীর শব্দদূষণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন

| ঢাকা , বুধবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২০

মাত্রাতিরিক্ত শব্দ একসময় রাজধানীবাসীর কাছে শুধুই বিরক্তির কারণ ছিল। এখন তা রীতিমতো উৎপাত হিসেবে হাজির হয়েছে। এ শব্দ সড়ক থেকে বাসাবাড়ি, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিসসহ নগরবাসীর জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, এখন ঢাকার প্রায় সব এলাকাতেই শব্দ গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি। শব্দদূষণের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে যানবাহনের হর্ন, ইঞ্জিন ও চাকার কম্পন, রেলগাড়ি চলাচলের শব্দ, নির্মাণকাজ, কলকারখানা, মাইকিং।

এটা বলাবাহুল্য যে, রাজধানীতে শব্দদূষণ এক নীরব ঘাতকে পরিণত হয়েছে। উচ্চমাত্রার শব্দের কারণে মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস, বধিরতা, হৃদরোগ, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন শিশু এবং বয়স্করা। এমনকি গর্ভে থাকা সন্তানও শব্দদূষণে ক্ষতির শিকার হয়, অর্থাৎ তাদের শ্রবণশক্তি খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।

দুঃখজনক হলেও সত্য, শব্দদূষণ রোধে কেউ কোন কথা বলছেন না। এ বিষয়ে যেন কারও মাথাব্যথা নেই। বরং যারা এর প্রতিকার করবে তারাই সৃষ্টি করছে বেশি। ঢাকায় বিয়ে বা গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানসহ নানা সামাজিক-রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দে মাইকে গান বাজানো এখন একটি স্বাভাবিক ঘটনা। আর রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নেতার জন্মদিন, মৃত্যুবার্ষিকী বা বিশেষ দিবসগুলোতে সারাদিন-রাত ধরে উচ্চ শব্দে মাইক বাজালেও কেউ তার প্রতিবাদ করার সাহস পান না। শীতকাল এলেই এলাকায় এলাকায় ওয়াজ মাহফিল, কোথাও আবার কীর্তন চলে। এবং এসব মাহফিলে একাধিক মাইক বাজানো হয় উচ্চ শব্দে। ফলে শব্দদূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এর ক্ষমতাবলে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০০৬ প্রণয়ন করা হয়। বিধিমালার আওতায় নীরব, আবাসিক, মিশ্র, বাণিজ্যিক ও শিল্প এলাকা চিহ্নিত করে শব্দের মানমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। আইন অমান্য করলে প্রথমবার অপরাধের জন্য এক মাস কারাদণ্ড বা অনধিক পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড এবং পরবর্তী অপরাধের জন্য ছয় মাস কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এ আইনের তেমন প্রয়োগ দেখা যায় না। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে বিষয়টা দেশে তেমন কোন বিষয় নয়। অথচ জাতি মারাত্মভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এ কারণে।

শব্দদূষণ বন্ধে জন সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে এবং শব্দদূষণ বিধিমালার বাস্তবায়ন করতে হবে। নাগরিক জীবনের উচ্চবোধ যেসব দেশে তৈরি হয়েছে, সেখানে শব্দদূষণ নিয়ে আইনকানুন রয়েছে। নির্ধারিত মাত্রার বেশি শব্দ করলে সেটা আইন ভঙ্গের শামিল হয়। যারা এমনটি করেন, সাধারণত প্রথমে ওই প্রতিবেশীকে সাবধান করা হয়। এরপর পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানার ব্যবস্থা রয়েছে। একই অপরাধ পুনর্বার করলে জরিমানার অঙ্ক দ্বিগুণ হারে বাড়তে থাকে। আমাদের দেশেও এমন নিয়ম চালু করতে হবে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি, পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। সর্বোপরি এ পরিস্থিতি থেকে জনগণকে মুক্ত করতে প্রয়োজন আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা।