• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ১৮ি জিলহজ ১৪৪১, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসন করুন ব্যর্থতার দায় ওয়াসাকেই নিতে হবে

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৩ অক্টোবর ২০১৯

বৃষ্টি হলেই রাজধানীজুড়ে জলাবদ্ধতা এবং মানুষের ভোগান্তি গত কয়েক বছরের নিয়মিত ঘটনা। কিন্তু চলতি বছরের মধ্যে গত মঙ্গলবার ভোগান্তির মাত্রা ছিল সবচেয়ে বেশি। মাত্র সোয়া ঘণ্টার ভারি বৃষ্টিতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল গোটা রাজধানী। ডুবে গিয়েছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়কসহ অলিগলি। অনেক এলাকার ফুটপাতও ছিল পানির নিচে। রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে ছিল ছোট-বড় নানা ধরনের যানবাহন। হেঁটে যেখানে যেতে ১০ মিনিট লাগে, গাড়িতে সেই জায়গায় যেতে ২ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লেগেছে। ফলে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে নগরবাসীকে।

বৃষ্টি হলেই রাজধানীর বড় অংশ জলাবদ্ধ হয়ে পড়ার ঘটনা নতুন নয়। গত ১০ বছরে এ সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া, নালাগুলো ঠিকমতো পরিষ্কার না করা, খাল ভরাট হয়ে যাওয়াই এর জন্য দায়ী। রাজধানীর ফ্লাড অ্যাকশন প্ল্যান অনুযায়ী, রাজধানীর মোট আয়তনের ১২ শতাংশ জলাধার থাকার কথা। কিন্তু রাজধানীতে জলাধারের পরিমাণ ২ শতাংশের মতো। বৃষ্টির পানি দ্রুত না সরার এটিও অন্যতম কারণ।

গত ১০ বছরে ঢাকা ওয়াসা জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় অন্তত ৫২৩ কোটি টাকা খরচ করেছে। ভারি বৃষ্টি হলেও যাতে জলাবদ্ধতা না হয়, সে জন্য শুধু গত অর্থবছরেই সরকারের কাছ থেকে ঢাকা ওয়াসা বরাদ্দ পেয়েছিল ৪০ কোটি টাকা। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম ৩ মাসেই (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সরকার ওয়াসাকে দিয়েছে আরও ৫ কোটি টাকা। ১৫ মাসে ৪৫ কোটি টাকা খরচের ফল কী, তা মঙ্গলবারের বৃষ্টিতেই নগরবাসী বুঝে গেছেন। দুপুর দেড়টা থেকে রাত সাড় ৭টা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টা ওয়াসা ভবনের সামনের সড়ক এবং এর আশপাশের এলাকায় পানি জমে ছিল। বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনক।

বাস্তবতা হলো, জলাবদ্ধতা সমস্যায় টাকা খরচ হচ্ছে, কিন্তু পরিকল্পনামাফিক হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, এর মধ্যে কত পরিমাণ আসলে ব্যয় হয়েছে আর কত পরিমাণ ব্যয় দেখানো হয়েছেÑ সেটাও একটি প্রশ্ন। দুর্নীতি এবং অনিয়ম এ ক্ষেত্রে হয়নি সেটাও কেউ হলফ করে বলতে পারবেন না। বাসাবাড়ি থেকে খাল ও নদী পর্যন্ত পানি নিষ্কাশনের বিষয়টি পরিপূর্ণভাবে না বুঝে শুধু রাস্তা কেটে পাইপ বসালে কিংবা কালভার্ট নির্মাণ করলে টাকাটা পানিতেই যাবে। সব সময় নালা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি খালগুলো দখলমুক্ত এবং খনন করে প্রবহমান রাখতে হবে। যাতে বৃষ্টির পানি খাল হয়ে নদী পর্যন্ত যেতে পারে। ঢাকা ও চারপাশের নদীরও খনন দরকার। রাস্তা থেকে নদী পর্যন্ত পানি যাওয়ার প্রক্রিয়াটি নির্বিঘœ রাখতে হবে। এর কোনটাই যে ওয়াসা করেনি বা করার কার্যকর কোন উদ্যোগ নেয়নি সেটা বোঝার জন্য কাউকে ১০ বছর ওয়াসার এমডি থাকতে হয় না।

নালা পরিষ্কারের কাজটি শুধু বর্ষার আগে করা হয়, কিন্তু এটি সারা বছরের কাজ। ওয়াসা ও সিটি করপোরেশন জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য কী করছে, তা নিয়মিত তদারকি দরকার। ঢাকা ওয়াসা ও সিটি করপোরেশন একে অন্যকে দোষ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করে। তাদের কাজে সমন্বয় না হলে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে রাজধানীর মানুষ মুক্তি পাবে না।