• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১২ জুলাই ২০২০, ২৮ আষাঢ় ১৪২৭, ২০ জিলকদ ১৪৪১

রাজধানীর খাল-জলাশয়গুলো পুনরুদ্ধার এবং পানির প্রবাহ নিশ্চিত করুন

| ঢাকা , রোববার, ০৫ জানুয়ারী ২০২০

ঢাকা শহরে জলাবদ্ধতার অন্যতম প্রধান কারণ রাজধানীর খাল ভরাট ও বেদখল হয়ে যাওয়া জলাশয়। আগে যেসব খাল দিয়ে মহানগরীর পানি নিষ্কাশন হতো, সহজে পণ্য পরিবহন করা যেত, এখন সেসব খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় ঢাকা জলাবদ্ধ নগরীতে পরিণত হচ্ছে। রাজধানীর খাল এবং জলাশয়গুলো অবৈধভাবে দখল ও ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি খাল-জলাশয়ে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় সেসব ভরাট হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে পানি নামতে পারে না। এর ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে নগরবাসীকে। পরিবেশগতভাবে ধ্বংস হচ্ছে রাজধানী ঢাকা মহানগরী। বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে ঢাকা। এ নিয়ে গত সোমবার সংবাদ খবর প্রকাশ করেছে।

রাজধানীর খাল উদ্ধার ও খাল দখলকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করলেও খাল-জলাশয় উদ্ধার করা হচ্ছে না। বস্তুত ঢাকার খালগুলো ধ্বংসের একটি বড় কারণ অবৈধ দখল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা। সরকারের কিছু উদ্যোগ ঢাকার খালগুলো অবৈধ দখল উচ্ছেদে ভূমিকা রাখলেও দেখা গেছে সমন্বয়হীনতার কারণে উদ্ধার করা জায়গা স্থানীয় প্রভাবশালী ও স্বার্র্থান্বেষী মহল পুনরায় দখল করছে। আর যেগুলোর অস্তিত্ব রয়েছে সেগুলো ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে দখলের কারণে।

ঢাকা মহানগরীতে একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলির রাস্তায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে যায়। লোকজনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। জলাবদ্ধতার কারণে সৃষ্টি হয় যানজট। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী।

খাল-জলাশয়গুলো উদ্ধার করে পানি নেমে যাওয়ার স্বাভাবিক পথ তৈরি হলে নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো না। ঢাকা শহরের খালগুলো সচল করতে না পারলে রাজধানীর জনজীবনের জন্য তা বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। আমাদের প্রত্যাশা, ঢাকা মহানগরীকে বাঁচাতে এর জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য দ্রুত এবং যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এক্ষেত্রে অবিলম্বে দখল হয়ে যাওয়া খাল পুনরুদ্ধার করার পাশাপাশি দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। জলাশয়ে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে। খাল ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ বন্ধ করতে করতে হবে। খালের জায়গায় নতুন করে যাতে কোন স্থাপনা গড়ে উঠতে না পারে তার ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খালে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে।