• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

মাদ্রাসা উন্নয়ন প্রকল্প কার স্বার্থে

মাদ্রাসা নয় নতুন স্কুল করুন

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

দেশের প্রায় দুই হাজার মাদ্রাসা উন্নয়নে সরকার প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে। গত মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এ প্রকল্প নেয়া হয়। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। জানা গেছে, প্রতিটি সংসদীয় আসনের জনপ্রতিনিধি মাদ্রাসা নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগে ডিমান্ড অব অর্ডার (ডিও) দেন। এসব ডিওতে মাদ্রাসার দৈন্যদশা ও জরাজীর্ণতার কথা উল্লেখ করে জরুরি ভিত্তিতে নতুন ভবন নির্মাণের কথা বলা হয়। উক্ত প্রকল্প আসন্ন নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেছেন, অবশ্যই নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে, আমরা নির্বাচনকে কার্যকরভাবে প্রভাবিত করতে চাই। এজন্যও প্রকল্প পাস করা হয়েছে।

মাদ্রাসা উন্নয়নের নামে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প কেন নেয়া হয়েছে সেটা পরিকল্পনামন্ত্রীর কথায় স্পষ্ট হয়েছে। নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার জন্যই ৩০০ এমপি একযোগে ডিও দিয়েছেন। পরিকল্পনামন্ত্রীর বক্তব্যে এটাই বোঝা যায়, মাদ্রাসার দৈন্যদশা বা জরাজীর্ণতা অজুহাত মাত্র। প্রশ্ন হচ্ছে, দেশের মাদ্রাসাগুলোর অবস্থা যদি বাস্তবেই দৈন্য হয় বা জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে সেগুলো দেখার দায়িত্ব সরকারের কিনা। সরকার দেশে মডেল মসজিদ স্থাপন করছে, মাদ্রাসার উন্নয়ন করছে, আমরা জানতে চাই, এটা কি ইসলামী প্রজাতন্ত্র নাকি গণপ্রজাতন্ত্রের দেশ। বঙ্গবন্ধু কি বাংলাদেশকে ইসলামী প্রজাতন্ত্রে পরিণত করার জন্য লাড়াই-সংগ্রাম করেছিলেন। সরকার কথায় কথায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার কথা বলে। বাস্তবে এর বিপরীতটা করতে দেখা যাচ্ছে।

ধর্মভিত্তিক রাজনীতি পাকিস্তানি ঔপনিবেশ মানসিকতারই বহির্প্রকাশ। স্বৈরশাসকদেরও দেখা গেছে, ধর্মের ওপর ভর করে ক্ষমতায় টিকতে চেয়েছে, নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চেয়েছে। বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি শেষ পর্যন্ত কী পরিণতি লাভ করেছে সেটা কারও অজানা নয়। এটা ভাবতে অবাক লাগে, যেই রাজনৈতিক দল ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিতে ’৭০-এর নির্বাচন করেছে, এর ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছে সেই দল এখন ধর্মকে পুঁজি করে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চাচ্ছে। হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর আনুকূল্য পেতে চাচ্ছে। এলক্ষ্যে কওমি মাদ্রাসাকে সরকারি স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। কওমি মাদ্রাসার সনদকে সাধারণ শিক্ষার সমমানের মার্যাদা দেয়া হয়েছে। দেশে অনেক স্কুল-কলেজ দৈন্যদশা ও জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকলেও সেদিকে নজর না দিয়ে মাদ্রাসার উন্নয়ন করা হচ্ছে।

কোন স্বার্থে দেশকে পশ্চাদমুখে টানছে সরকার সেটা আমরা জানতে চাই। আমরা বলতে চাই, বাংলাদেশকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র বানানোর অপপ্রয়াস থেকে বিরত থাকতে হবে। কোন বিশেষ ধর্মীয় গোষ্ঠীর সুযোগ-সুবিধার জন্য বাংলাদেশের জন্ম হয়নি। ক্ষমতাসীন দল ধর্মনিরপেক্ষতা ভুলে ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতি করতে পারে তবে সেজন্য রাষ্ট্রের চরিত্র বিসর্জন দিতে পারে না। কোন দলের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য জনগণের টাকা ব্যবহার করা যায় না। আমরা বলতে চাই, সরকারকে মসজিদ-মাদ্রাসাভিত্তিক সব প্রকল্প থেকে সরে আসতে হবে। সরকারের এমন কিছু করা উচিত হবে না যাতে বঙ্গবন্ধুর ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশর স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়।