• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮ ১ রমজান ১৪৪২

ভাড়া নিয়ে ভাড়াটে ও বাড়িওয়ালার সংকট সমঝোতার ভিত্তিতে সমাধান কাম্য

| ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২০

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ থেকে সরকারি সিদ্ধান্তে ঢাকাসহ সারা দেশের মানুষ এখন ঘরবন্দী। এতে মধ্যবিত্ত এবং নিম্নআয়ের মানুষ বিপদে পড়েছেন। হাতে কাজ নেই, বেকার হয়ে ঘরবন্দী। ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যারা ঘরভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন, তাদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। এক মাসের বাসাভাড়া বাকি থাকায় গত মঙ্গলবার রাতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভার রাজনগর গ্রামে ভাড়াটিয়ার স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত করেছেন বাড়ির মালিক। রাজধানীতে এক মাসের বাড়িভাড়া বকেয়া থাকায় ভাড়াটিয়াকে ২ মাসের শিশুসহ গভীর রাতে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। এমন আরও ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে যা রীতিমতো উদ্বেগজনক।

এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, করোনার দুঃসময়ে ভাড়াটেরা অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে আছেন। এ পরিস্থিতিতে ঢাকাসহ সারা দেশের লাখ লাখ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। নিম্নআয়ের মানুষের হাতে টাকা নেই। কিন্তু বাড়িওয়ালারা সেটা বুঝতে চাইছেন না। বাড়িওয়ালাদের পক্ষ থেকে অনেকেই বলেছেন, ভাড়ার টাকায় অনেকের সংসার চলে। যদি ভাড়াটেরা বাড়িভাড়া না দেন, তাহলে কীভাবে তারা সংসার চালাবেন? আবার ঋণ নিয়ে বহু মালিক বাড়ি নির্মাণ করেছেন। সেই ঋণের টাকা তো মাসে মাসে পরিশোধ করতে হয়।

করোনাভাইরাসের এ মহামারীর সময়ে ভাড়া দেয়া নিয়ে ভাড়াটে ও বাড়িওয়ালার মধ্যে যে সংকট তৈরি হয়েছে, জরুরিভিত্তিতে সেটার সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। এ সময়ে যারা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, যারা নিম্নআয়ের মানুষ, তারা বাড়িভাড়ার টাকা কোত্থেকে দেবেন? মহামারীর এ সময়ে নিম্নআয়ের যেসব মানুষের বাড়িভাড়া দেয়ার সঙ্গতি নেই, তাদের যেন কোনোভাবে বাসা থেকে বের করে না দেয়া হয়, সে ব্যাপারে সরকারি হস্তক্ষেপ দরকার। বাড়িওয়ালাদের বোঝাতে হবে, ভাড়া না দেয়ার কারণে এ সময়ে যেন কোনো বাড়িওয়ালা ভাড়াটেকে বের না করে দেন। নিম্নআয়ের যেসব মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, তারা ভাড়া কীভাবে পরিশোধ করবেন? অবশ্যই বিষয়টি মানবিকভাবে দেখতে হবে। দুই পক্ষকেই মানবিক হতে হবে। এই মুহূর্তে ভাড়াটে বের করে দিলে করোনা সংকটের কারণে নতুন ভাড়াটেও পাবেন কোথায় বাড়িওয়ালারা? সুতরাং ভাড়ার প্রশ্নে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটে একটা সমঝোতা হতে পারে বর্তমান বাস্তবতায়।

বাড়িভাড়া নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, সেখানে বিচ্ছিন্নভাবে সমাধান করার সুযোগ খুবই সীমিত। যদি কোনো বাড়িওয়ালা স্বপ্রণোদিত হয়ে বাড়িভাড়া পরে নেন, সেটা একটি সাময়িক সমাধান হতে পারে। কিন্তু সেটা হতে হবে দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে। মূল সমাধানের জায়গাটা হলো রাষ্ট্রের হাতে। এ রকম একটা পরিস্থিতিতে নিম্ন-মধ্যবিত্তের মানুষ এখন যে পর্যায়ে এসেছে, তাদের সরকারিভাবে প্রত্যক্ষ আর্থিক সহায়তা না দিলে, তারা খুব দ্রুত দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাবে। যেহেতু দেশের ভেতর সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই, তাই এখন অ্যাডহক (জরুরি) ভিত্তিতে একটা সুরক্ষা দেয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। জরুরিভিত্তিতে এককালীন হলেও নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারকে আর্থিক অনুদান দেয়া যেতে পারে। সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষকে আর্থিক সহায়তা করা। অসহায় মানুষকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় জরুরিভিত্তিতে এককালীন হলেও অন্তত দু-তিন মাসের জন্য আর্থিক বরাদ্দ দেয়া যেতে পারে।

বাড়িওয়ালার উচিত হবে না ভাড়াটেকে বাসা থেকে বের করে দেয়া বা ভাড়ার জন্য চাপ দেয়া। তেমনি ভাড়াটেকেও চেষ্টা করতে হবে সংকট উত্তরণের পর ভাড়া সম্পূর্ণ পরিশোধ করা। প্রয়োজনে সংক্রামক আইন অনুযায়ী যে উপদেষ্টা কমিটি রয়েছে, সেই কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারের কাছে একটা সুপারিশ জমা দিতে পারে। সেই সুপারিশ অনুযায়ী, সরকার একটা প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারে। ওই প্রজ্ঞাপন না মানলে তা হবে অপরাধ। দুই মাস কিংবা তিন মাস যাতে ভাড়া দেয়ার জন্য ভাড়াটেকে সময় দেয়া হয়।