• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ মহররম ১৪৪১

ব্যর্থ ও অযোগ্যদের ক্রিকেট ব্যবস্থাপনা থেকে তাড়াতে হবে

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

হোম কনডিশনের সুবিধা কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। প্রায় দুই দশক ধরে আন্তর্জাতিক টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা কাজে আসেনি। সেশনের পর সেশন বৃষ্টিতে ভেসে গেছে। নবীন আফগানিস্তানের বিপক্ষে বৃষ্টির বদৌলতে টেস্ট হার এড়ানোর যে মোক্ষম সুযোগ এসেছিল সেটাও খুইয়ে এসেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। সেদিন তারা বাংলাদেশ ক্রিকেটের মানমর্যাদাও খুইয়েছেন। মাত্রই শেষ হওয়া বিশ্বকাপে সবগুলো ম্যাচ হেরে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে স্থান পেয়েছিল আফগানিস্তান। দলের ভেতর চলছিল অন্তর্কলহ। অভিজ্ঞ বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারকে বাদ দিয়ে তরুণদের নিয়ে দল গঠন করেছে আফগানিস্তান। ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ অধিনায়ক নিয়ে দলটি বাংলাদেশ সফরে এসেছিল। এখানে আসার আগে তারা টেস্ট ম্যাচ খেলেছে মাত্র দুটি। এমন একটি দলের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ। নারী ক্রিকেটাররা যখন নারী টি-২০ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, তখন ঘরের মাঠে ছেলেরা আফগানিস্তানের কাছে হেরেছে ২২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে।

আফগানিস্তানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত একমাত্র টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশ ক্রিকেটের হতশ্রী প্রকাশ পেয়েছে। দলের একজন বোলারকেও মনে হয়নি আন্তর্জাতিক মানের। বিপরীতে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা যখন ব্যাট করেছেন তখন মনে হয়েছে শেন ওয়ার্নের মতো বোলারদের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছেন। তারা খুব কম বলই স্বচ্ছন্দে খেলতে পেরেছেন। অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বলেছেন, ব্যাটসম্যানরা ভয় আর চাপ নিয়ে খেলেন। আমরা জানতে চাই, নবীনতম টেস্ট দলের বিরুদ্ধে খেলতে কিসের ভয়, আর কিসের চাপ কাজ করে। হেরে গেলে ক্রিকেটারদের বাড়ি-গাড়ি কেড়ে নেয়া হবে- এমন ভয় তো ছিল না। বরং জিতলে হয়তো বাড়ি-গাড়ি আর কাঁড়িকাঁড়ি টাকা মিলত। এক-দুটি ম্যাচ জিতলেই তো সরকার উদার হস্তে ক্রিকেটারদের এসব দিয়ে আসছে। মাঠে পারফর্ম করা, ম্যাচ জেতা খেলোয়াড়দের দায়িত্ব। খেলার জন্য তারা বেতন পান, ম্যাচ ফি পান। এরপরও তাদের কেন কথায় কথায় বাড়ি-গাড়ি দিতে হবে- সেটা একটা প্রশ্ন। ম্যাচ জেতার জন্য যদি বাড়তি পুরস্কার দেয়া হয়, তাহলে হারার জন্য কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না- সেটা আরেকটা প্রশ্ন।

ক্রিকেট জানে না, বোঝে না- এমন ব্যক্তিরা যদি ক্রিকেট বোর্ডের হর্তাকর্তা হন, তাহলে দেশের ক্রিকেটের দুর্দশা কিছুতেই কাটবে না। ক্রিকেটকে সঠিক পথে ফেরাতে হলে সবার আগে ক্রিকেট বোর্ডে পরিবর্তন আনতে হবে। ক্রিকেট ব্রেইন ছাড়া কেউ যেন বোর্ড পরিচালনা করতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। ক্রিকেটের প্রতিটি ফরম্যাট অনুযায়ী দলকে ঢেলে সাজাতে হবে। টি-২০ আর টেস্টে বাংলাদেশের অবস্থা যাচ্ছেতাই। আগামী টি-২০ ওয়ার্ল্ডকাপে আফগানিস্তান সরাসরি অংশগ্রহণ করবে। আর বাংলাদেশকে সেখানে খেলতে হলে বাছাইপর্বের বাধা অতিক্রম করতে হবে। বাংলাদেশই একমাত্র দল যারা টেস্ট খেলুড়ে ১০টি দেশের কাছে হারের স্বাদ পেয়েছে। লজ্জাজনক এ ধরনের রেকর্ড আমরা আর দেখতে চাই না। খেলোয়াড়রা মাঠে যাওয়া-আসার মিছিলে শামিল হবেন- সেটা মেনে নেয়া যায় না। তাদের দায়িত্বশীল হতে হবে। প্রতিটি বলে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে লড়তে হবে।