• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ সফর ১৪৪১

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আইন মানতে বাধ্য করতে হবে

| ঢাকা , শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০১৯

আইন মানছে না দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। আইন না মেনেও বহাল তবিয়তে সেগুলো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার কথা ছিল ২০১০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে। সিংহভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েই স্থায়ী ক্যাম্পাসে যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করতে হলে ভিসি, প্রোভিসি এবং কোষাধ্যক্ষ থাকা বাধ্যতামূলক। বাস্তবতা হচ্ছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০টিতে ভিসি, ৭টিতে প্রোভিসি এবং ৫৩টিতে কোষাধ্যক্ষ নেই। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য। পূর্ণকালীন শিক্ষক ও খ-কালীন শিক্ষকের অনুপাত মানা হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত একটি অংশকে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ দেয়ার প্রশ্নে কারসাজির অভিযোগ মিলেছে। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ইউজিসিতে নিয়ম মেনে অডিট রিপোর্ট দেয় না।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আইন না মানলেও শিক্ষা কার্যক্রম ঠিকই চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন নতুন বিভাগ খুলছে, শিক্ষার্থী ভর্তি করছে, সমাবর্তন করছে। আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসবের অনুমোদন দিয়েই যাচ্ছে। আইন না মানার জন্য তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত ছিল। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কারও মধ্যেই ব্যবস্থা নেয়ার কোন তাগিদ নেই। আগে বিশ্ববিদ্যালয় মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার তাগাদা দেয়া হতো, সময় বেঁধে দেয়া হতো। এখন সেটাও করা হয় না। স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে দেড় বছর আগে। এই সময়ের মধ্যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই।

কিছুতেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আইনের মধ্যে আনা যাচ্ছে না। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিক রাজনৈতিক প্রভবাশালী ব্যক্তি। তাদের অনেকে বর্তমান সংসদের মন্ত্রী-এমপি। এ কারণে আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অনেক সময় অসহায় হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় সরকারের সর্বোচ্চ মহলের সদিচ্ছা ছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা অসম্ভব। আমরা বলতে চাই, দেশের সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে অবশ্যই আইন মেনে চলতে হবে।

আইন বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখাতে হবে। দলীয় লোকদের অন্যায্য সুবিধা দিতে গিয়ে শিক্ষার সর্বনাশ করা চলবে না। সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারীকে আমরা কঠোর ভূমিকায় দেখতে চাই। নিজেদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করলে চলবে না। আইন তাদেরকে যে ক্ষমতা দিয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার করতে হবে। কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিক কে সেটা দেখলে চলবে না। আইন প্রয়োগ করতে না পারলে সংশ্লিষ্টরা ব্যর্থতা মেনে পদত্যাগ করছেন না কেন। সেটা জানা দরকার।