• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮ মহররম ১৪৪২, ০৯ আশ্বিন ১৪২৭

বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ মূল্যায়নের উদ্যোগ বাপেক্সের সঙ্গে নয় কার স্বার্থে

| ঢাকা , বুধবার, ০২ অক্টোবর ২০১৯

ভোলার দুটি গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাসের সম্ভাব্য মজুদ মূল্যায়নের লক্ষ্যে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা গাজপ্রম সিজেএসসির সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চূড়ান্ত করেছে বাপেক্স। সমঝোতা স্মারকে উক্ত গ্যাসক্ষেত্রে যৌথ সমীক্ষার কথা বলা হয়েছে। বাপেক্সের আগামী বোর্ড সভায় এমওইউ নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার একটি জাতীয় দৈনিক বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

গাজপ্রমের সঙ্গে এমওইউ চূড়ান্ত করার অর্থ হচ্ছে, এই প্রতিষ্ঠানকে আবারও দেশের গ্যাস অনুসন্ধানে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি ঠিকাদার হিসেবে ১০টি কূপ খনন করেছিল। তাদের সেই ঠিকাদারি বাংলাদেশের জন্য কোন সুখকর অভিজ্ঞতা বয়ে আনেনি। সম্প্রতি চুক্তিমূল্য বাবদ তাদের গড়ে দিতে হয়েছিল ১৫৫ কোটি টাকা। অথচ বাপেক্স কূপ খনন করলে এই খরচ পড়ত সর্বোচ্চ ৮০ কোটি টাকা। গাজপ্রমের কাছ থেকে গ্যাস কেনার অভিজ্ঞতাও ভালো নয়। তাদের কাছ থেকে প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাস কিনতে হয়েছিল প্রায় ২৫০ টাকা দিয়ে। এর বিপরীতে বাপেক্সের গ্যাসের মূল্য প্রতি হাজার ঘনফুট মাত্র ৮৫ টাকা।

কাঁড়ি কাঁড়ি টাকার শ্রাদ্ধ হওয়ার পরও কেন বিদেশি কোম্পানিপ্রীতি দূর হয়নি, সেই প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশি কোম্পানি কাজ পেলে দেশের একশ্রেণীর কর্তাব্যক্তির পকেট ভারি হয়। বিদেশ ভ্রমণের মুলা তো রয়েছেই। কমিশন আর ভ্রমণ এ দুটো থাকলে উগান্ডার প্রতিষ্ঠানও বাংলাদেশে কাজ পেয়ে যায়। কর্তাব্যক্তিরা দেশের স্বার্থ নিয়ে ভাবল না। গ্যাস অনুসন্ধানে বাপেক্স বহুবার তার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। ভোলাতেই তারা সফলভাবে কাজ করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেখানে গ্যাস নিয়ে নতুন করে মূল্যায়নের কোনো প্রয়োজন নেই। প্রশ্ন হচ্ছে প্রয়োজন না থাকলেও তথাকথিত মূল্যায়নের কেন আয়োজন করা হচ্ছে, আর এর সঙ্গে বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানকে কেন যুক্ত করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই মূল্যায়নের নামে গাজপ্রম গ্যাস উত্তলোন করতে চায়। আমরা বলতে চাই, মূল্যায়নের কাজে কোন বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা যাবে না। বাপেক্স নিজেই এই কাজ করুক। তারপরও যদি যৌথ সমীক্ষার প্রয়োজন দেখা দেয় তাহলে সুযোগধারী কোন প্রতিষ্ঠানকে এই কাজে যুক্ত করা যেতে পারে। কূপ খনন বা গ্যাস উত্তোলনের কাজ অতীতের মতো যেন কাউকে বিনা টেন্ডারে দিয়ে দেয়া না হয়Ñ সেটা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে।