• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০, ১৯ চৈত্র ১৪২৬, ৭ শাবান ১৪৪১

অবস্থা অতি উদ্বেগজনক

বায়ুদূষণ রোধে ব্যবস্থা নিন

| ঢাকা , শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০

বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশে বছরে প্রায় সোয়া লাখ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, যা দেশের জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রায় ৫ শতাংশ। গত বুধবার পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্রিন পিসের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে। বায়ুদূষণজনিত রোগে দেশে শিশুর অকালমৃত্যুর একটি হিসাবও দেয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। তাতে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে ৯৬ হাজার শিশুর অকালমৃত্যু হয়েছে।

বায়ুদূষণের খবরটি শুধু দুঃখজনক নয়, উদ্বেগজনকও বটে। তবে প্রতিনিয়তই দেশের গণমাধ্যমে এ ধরণের প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে, বিশেষজ্ঞরা এ নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা শোনাচ্ছেন। কিন্তু কোথাও কোন প্রতিকারের লক্ষণ নেই। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, শিল্পায়ন, শিল্প-কারখানার বিষাক্ত রাসায়নিক দূষণ, বর্জ্য অব্যবস্থাপনার কারণে দূষণ বাড়ছে। আইনানুযায়ী জনবসতির কাছাকাছি ইটভাটা থাকার নিয়ম নেই। কিন্তু সেই আইন মানা হচ্ছে না। ত্রুটিপূর্ণ বাস, রিকন্ডিশন্ড গাড়ি, ইটভাটা এবং বিভিন্ন কারখানার কালো ধোঁয়া ও বিষাক্ত রাসায়নিক বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে। অপরিকল্পিতভাবে স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে। সরকারি কিংবা বেসরকারি বিভিন্ন কাজে খোঁড়াখুঁড়ি বা নির্মাণকাজের কারণে ঢাকার বাতাসে ধুলাবালির পরিমাণ বাড়ছে।

যে কারণে এত শিশুর অকাল মৃত্যু, সেই বায়ুদূষণ প্রতিরোধে সরকার বা প্রশাসনের ভূমিকা চোখে পড়ার মতো নয়। বায়ুদূষণ রোধে উচ্চ আদালতও বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু সেগুলোও সঠিকভাবে প্রতিপালিত হচ্ছে না। কারও এ ব্যাপারে কোন মাথাব্যাথা নেই। বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনক।

দেশ ও জনস্বার্থ বিবেচনায় বায়ুদূষণ রোধে এখনই সুচিন্তিত পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। পরিবেশ আইন ও বিধান ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, এ কাজে বেসরকারি সংস্থাগুলোকে যুক্ত করে দেশের মানুষকে আরও সচেতন করে তুলতে হবে। নগরের আশপাশে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব ইটভাটা নির্মাণে জোর দিতে হবে। নির্মাণকাজে যাতে ধুলা কম হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নিয়ম মেনে কাজ করা হচ্ছে কি না সে বিষয়ে তদারকি করা প্রয়োজন। এছাড়া জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে।