• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ১৩ মহররম ১৪৪০

চসিককে অন্যায় উদ্যোগ থেকে বিরত থাকতে হবে

বস্তিবাসীদের জন্য নির্মিত ভবন দখল নয়

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ মার্চ ২০১৮

চট্টগ্রামের টাইগারপাস এলাকায় বস্তিবাসীদের জন্য নির্মিত ভবনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) অফিস স্থানান্তর করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ নিয়ে গত সোমবার একটি জাতীয় ইংরেজি দৈনিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ৩৩টি পরিবারের জন্য ২০১৬ সালে ৭ তলা ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হয়। ভবন নির্মাণ করা হলেও নানা তালবাহানায় নির্ধারিত বস্তিবাসীদের ফ্ল্যাট হস্তান্তর করা হচ্ছে না। চসিক বলছে, নগর ভবনের সংস্কার করা হবে। সংস্কারকালীন সময় উক্ত ভবনে সিটি করপোরেশনের অফিস স্থানান্তর করা হবে। মেয়র আ জ ম নাছিরউদ্দীন গণমাধ্যমকে বলেছেন, সাময়িক সময়ের জন্য চসিক উল্লিখিত ভবনে স্থানান্তর করা হবে।

২০০৭ সালে চট্টগ্রামে ভয়াবহ পাহাড় ধসে অন্তত ১২৭ জন মারা গেলে তৎকালীন মেয়র বস্তিবাসীদের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণের ঘোষণা দেন। এজন্য উক্ত স্থানের ৩৩ পরিবারের সঙ্গে চসিকের চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রত্যেক পরিবার ভবন নির্মাণের জন্য নিজেদের বসবাসস্থল ছেড়ে দেন ও নগদ ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। ২০১৩ সালে ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

চসিকের বর্তমান মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই উক্ত ভবন নিয়ে বিতর্কিত ভূমিকা পালন করছেন বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এর আগে তিনি উক্ত ভবনে চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসনের পরিকল্পনা করেছিলেন। এছাড়া উক্ত ভবন টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারা দেয়ার কথাও বলা হয়েছিল। এখন সেখানে চসিকের অফিস স্থানান্তরের কথা শোনা যাচ্ছে। বর্তমান মেয়রের প্রতিটি পরিকল্পনাই হঠকারী বলে আমরা মনে করি।

ভবনটির প্রকৃত দাবিদার উক্ত ৩৩ পরিবার। তারা এ ভবন নির্মাণের জন্য নিজেদের বসবাসের জায়গা ছেড়ে দিয়েছে, অগ্রিম অর্থ পরিশোধ করেছে। ভবনে উঠতে পারলে মাসিক কিস্তিতে বাকি টাকা পরিশোধ করার কথা রয়েছে। যে উদ্দেশ্যে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে সেই উদ্দেশ্য থেকে সরে আসার কোন সুযোগ চসিকের নেই। ৩৩ পরিবারের ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দেয়াই চসিকের কর্তব্য। অথচ তারা সেটি জবরদখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বর্তমান মেয়রের এ ভাষ্যে ভরসা করা চলে না যে, চসিক সাময়িক সময়ের জন্য উক্ত ভবনে দখল নিচ্ছে। কোনভাবে যদি উক্ত ভবন একবার কারও দখলে যায় তবে সেটা প্রকৃত দাবিদার বস্তিবাসী আর ফিরে পাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি না। নির্মাণ শেষ হয়ে যাওয়া খালি ভবনেই বস্তিবাসী উঠতে পারছে না। সেখানে চসিক যদি তার দখল নেয় তাহলে বস্তিবাসী কোনদিনও সেটার দখল বুঝে নিতে পারবে না।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য থেকে সরে আসা বা বস্তিবাসীর কাছ থেকে জমি ও টাকা নিয়ে ফ্ল্যাট না দেয়া প্রতারণার শামিল। কোন নগর কর্তৃপক্ষ এ ধরনের প্রতারণা করছে সেটা আমরা দেখতে চাই না। কোন অজুহাতেই বস্তিবাসীদের তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা চলবে না। চসিকের অফিস স্থানান্তরের প্রয়োজন পড়লে তারা অন্য জায়গা দেখুক। চট্টগ্রামে জায়গার কি অভাব পড়েছে যে চসিককে হতদরিদ্র মানুষের জন্য নির্মিত ফ্ল্যাট দখল করতে হবে! আমরা আশা করব, বর্তমান চসিক মেয়র অবিলম্বে উক্ত ভবনে সংশ্লিষ্ট বস্তিবাসীদের দখল বুঝিয়ে দেবেন। এক্ষেত্রে তিনি অভিভাবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন সেটা আমাদের প্রত্যাশা। দখলদারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার জন্য নগরবাসী কাউকে মেয়র নির্বাচিত করেনি।