• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১ কার্তিক ১৪২৫, ৫ সফর ১৪৪০

বর্বর এ শিক্ষকদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

গত বুধবার গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে প্রকাশ্য স্থানে ৪ ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখার পর বেত্রাঘাত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে ওই স্কুলের সহকারী প্রধান ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। গত রোববার সকালে এ গঠনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ওই ছাত্রী। জানা যায়, গত বুধবার বেলা ১১টার দিকে তেলিহাটী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্কুলের দু’জন শিক্ষার্থী নিজেদের মধ্যে মারামারি করেছিল। মারামারির কারণ ছিল, উল্লিখিত ছাত্রীর প্রতি তাদের প্রেম। অথচ ছাত্রীটি এই একতরফা প্রেম সম্পর্কে কিছুই জানত না। মারামারি করেছে যে দুই ছাত্র তাদের বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কিন্তু ওই ছাত্রীকে ক্লাস থেকে ডেকে নিয়ে যান বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী মনসুর মানিককে খবর দেয়া হয়। প্রধান শিক্ষক এসে ছাত্রীকে তার নিজ কক্ষে ৪ ঘণ্টা আটকে রেখে গালাগাল করেন। পরে তিনি ও সহকারী প্রধান শিক্ষক ছাত্রীটিকে বেত্রাঘাত করেন।

প্রশ্ন হচ্ছে, যে দুটি ছেলে মারামারি করেছে, তাদের কোনো বিচার না করে নিরীহ, নিরপরাধ মেয়েটির সঙ্গে কেন শিক্ষকরা বর্বর আচরণ করলেন? যে দুটি ছেলে মেয়েটিকে পছন্দ করা নিয়ে মারামারি করছিল তাদের শাস্তি দেয়া উচিত ছিল। সেটা না করে কোন বিবেচনায় নিরপরাধ ছাত্রীকে নির্মম শাস্তি দেয়া হলো। তেলহাটী স্কুলের উল্লিখিত শিক্ষকরা ছাত্রীটির সঙ্গে যে আচরণ করেছেন তার সঙ্গে মধ্যযুগীয় বর্বরতারই তুলনা চলে। অপরাধ করল দুটি ছাত্র আবার সেই অপরাধে শাস্তি দেয়া হলো একজন ছাত্রীকে। আমরা কি আইয়ামে জায়েলিয়াতের যুগে বাস করছি? শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি প্রদান আধুনিক দুনিয়ায় অপরাধতুল্য। বাংলাদেশেও এ ধরনের শাস্তি প্রদানকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি শিক্ষার্থীদের লাইনে দাঁড় করিয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সংবর্ধনা দেয়ার বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। কিন্তু শ্রীপুরের তেলিহাটী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক এখনও শারীরিক ও মানসিক শাস্তি প্রদানের রীতি অনুসরণ করেন। শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকদের মানবিক আচরণই করতে হবে। মধ্যযুগীয় বর্বরতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলবে না।

আমরা চাই, দশম শ্রেণীর ছাত্রীকে অন্যায়ভাবে বেত্রাঘাত করার দায়ে অভিযুক্ত স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ছাত্রীর প্রতিব বর্বর আচরণের কারণে তাদের চাকরিচ্যুত করতে হবে।