• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১, ৬ মাঘ ১৪২৭, ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বদলি কোন সাজা নয় ফৌজদারি আইনে দৃষ্টান্তমূলক দন্ড দিন

অপরাধী সিন্ডিকেট বহাল তবিয়তে পুলিশ বদলি করে কী হবে

| ঢাকা , রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

মাদক ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- নিয়ে তীব্র সমালোচনায় পড়া কক্সবাজার জেলা পুলিশ ঢেলে সাজানো হচ্ছে। পুলিশ সদর দফতরের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার জেলা থেকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে ১ হাজার ৪৮৭ পুলিশ সদস্যকে। আর নতুন করে এ জেলায় ১ হাজার ৫০৭ পুলিশ সদস্যকে বদলি করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে শুক্রবার পর্যন্ত কক্সবাজারে বদলি হয়েছেন ১ হাজার ৩৪৭ পুলিশ সদস্য। পর্যায়ক্রমে বাকি সদস্যদেরও পদায়ন করা হবে। পরিবর্তন এসেছে কনস্টেবল থেকে শুরু করে পুলিশ সুপার পদেও। পাশাপাশি বাহিনীর অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রমেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সরকারি সংস্থার রদবদল স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও একসঙ্গে এত পুলিশের বদলির কারণে তা নিয়ে সর্বত্র আলোচনা চলছে। মূলত পুলিশের গুলিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মো. রাশেদ খানের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে কক্সবাজারের পুলিশ। এর জের ধরেই জেলার সব থানার পুলিশ সদস্যদের বদলি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে এ বদলির কারণে যে অসৎ পুলিশ সদস্যদের অপকর্ম বন্ধ হবে না সেটা নির্দ্বিধায় বলা যায়। শুধু সিনহা হত্যাকা- নয়, কক্সবাজার জেলা পুলিশের বিরুদ্ধে ইয়াবা কেনাবেচায় জড়িয়ে পড়া, মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ক্রসফায়ার এবং ক্রসফায়ার বাণিজ্যের অভিযোগ বহু পুরনো। এসব নিয়ে পত্র-পত্রিকায় বহু লেখালেখি হয়েছে। কিন্তু কেউ এ বিষয়ে কোনরকম কর্ণপাত করেনি। পুলিশের দুষ্কর্ম বন্ধে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

বলাবাহুল্য, একজন সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুর পর কর্তৃপক্ষের ঘুম ভাঙল। তারা জনসমক্ষে এটা দেখাতে চাচ্ছে যে, কক্সবাজার জেলার সব পুলিশ সদস্যদের বদলির মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কিন্তু যেসব কারণের জন্য বদলিটা হচ্ছে, সেসব কারণের সমাধান না হলে এ বদলির কোন সুফল পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ পুলিশ প্রশাসনে অব্যবস্থাপনা দূর করতে হবে সবার আগে। অসৎ পুলিশ কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা দিতে হবে। তা না হলে ব্যাপক রদবদল অর্থহীন বিষয়ে পরিণত হবে।

চাকরিতে বদলি বা সাময়িক বহিষ্কার কোনভাবেই অপকর্মের শাস্তি হতে পারে না। বরং চাকরিতে বদলির মাধ্যমে অনেকের পদায়নের ব্যবস্থা করা হয়। এক্ষেত্রেও সেটিই হতে যাচ্ছে। এবং এও বোধগম্য যে, তারা অন্য জেলায় বদলি হবে এবং আগের মতো একই নিয়মে অপকর্ম করবে।

কক্সবাজার জেলার অসৎ পুলিশ কর্মকর্তাদের যদি সংযত করার সদিচ্ছা থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করে সেই তদন্ত কমিটির মাধ্যমে প্রত্যেকের অপরাধের মাত্রা বিচার করে ফৌজদারি আইনে সাজা দিতে হবে। তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে নিরপেক্ষ সদস্যদের দ্বারা। ওই কমিটিতে কোনভাবেই পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের সংযুক্ত করা যাবে না। আমরা চাই, পুলিশ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের অপরাধ তদন্তে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ সেল গঠিত হোক। সেই বিশেষ সেলের মাধ্যমেই এসব তদন্ত কাজ সম্পন্ন হোক। প্রয়োজনে সেই তদন্ত রিপোর্ট দুর্নীতি দমন কমিশনেও জমা দেয়া যেতে পারে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবেÑ সেটাই প্রত্যাশা।