• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১

প্রাথমিকে বইয়ের বোঝা কমাতে দৃশ্যমান উদ্যোগ নিন

| ঢাকা , সোমবার, ০৮ এপ্রিল ২০১৯

প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বইয়ের বোঝা কমেনি। বই-খাতার ভারি বোঝা তো টানতে হচ্ছেই, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সিদ্ধান্তের কারণে তাদের শ্রেণীকক্ষে আগের চেয়ে বেশি সময় অবস্থান করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় গত ৩০ জানুয়ারি এক পরিপত্র জারি করে বিদ্যালয়ের সময়সূচি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে। বাড়তি পাঠ্যবই আর বাড়তি সময়ের চাপে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। অভিভাবক ও শিক্ষকদের মাঝেও এ নিয়ে হতাশা কাজ করছে। গত শনিবার সংবাদ-এ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কতটুকু ওজনের ব্যাগ বহন করতে পারবে সে সম্পর্ক আদালত আরও আগেই নির্দেশনা দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোন শিশুকে তার দৈহিক ওজনের ১০ শতাংশের বেশি ভারি ব্যাগ বহন করতে দেয়া যাবে না। বাস্তবে এ নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে আবশ্যকীয় বিষয় ৬টি। এ ছয় বিষয়ের বইয়ের সঙ্গে অনাবশ্যক অনেক বই জুড়ে দেয় অনেক বিদ্যালয়। এর সঙ্গে খাতা এবং অন্যান্য শিক্ষা উপকরণের ওজন তো রয়েছেই। একজন শিক্ষার্থীর ব্যাগের ওজন কত সেটা দেশের কোথাও মনিটর করা হয় বলে জানা যায় না।

সরকারের বক্তব্যে মনে হয়, তারা শিশুদের ওপর থেকে পড়ার অহেতুক চাপ কমানোর পক্ষে। প্রধানমন্ত্রী পড়ার চাপ কমানোর লক্ষ্যে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পরীক্ষা বন্ধের কথাও বলেছেন। জাতীয় শিক্ষানীতিতে বইয়ের বোঝা বা দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ে অবস্থান করার পক্ষে কোন ওকালতি করা হয়নি। শিক্ষানীতি অনুযায়ী, প্রাথমিকে পাঠদানের প্রশ্নে সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা ১৮ ঘণ্টা। অথচ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিপত্র জারি করে বলতে গেলে ‘সকাল-সন্ধ্যা’ স্কুল করার নির্দেশ দিয়েছে। এ মন্ত্রণালয়ের একেকটি তুঘলকি সিদ্ধান্ত দেখে প্রশ্ন জাগে যে, মন্ত্রণালয়টি আমলাদের কর্তৃত্বাধীন হয়ে পড়েছে কিনা। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট আমলারা কোন সিদ্ধান্ত জারি করার সময় শিক্ষানীতি বা সরকারের নীতি পর্যালোচনা করেন বলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় না।

আমরা বলতে চাই, সরকারের নীতি ও আদালতের নির্দেশনা মেনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে কাজ করতে হবে। শিশু শিক্ষার্থীদের বইয়ের বোঝা কমাতে দৃশ্যমান উদ্যোগ নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে অবস্থানের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করতে হবে। জাতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সময়সূচি নির্ধারণ করতে হবে। শিক্ষার্থীরা আমলাদের নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার গিনিপিগে পরিণত হয়েছে। আমলাদের এ প্রবণতা ত্যাগ করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বাস্তবসম্মত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কাজ করতে হবে।

  • ফেনীতে আগুনে পুড়িয়ে পরীক্ষার্থী হত্যাচেষ্টা

    এই বর্বরতার বিচার চাই

    ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতরে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে এক ছাত্রীকে