• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১ কার্তিক ১৪২৫, ৫ সফর ১৪৪০

প্রশ্ন ফাঁস : মাথা না কেটে মাথাব্যথার ওষুধ দিন

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

১২ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসএসসি পরীক্ষার দিন সকালে আড়াই ঘণ্টা ইন্টারনেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে ছিল। বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক উল্লিখিত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। তবে সমালোচনার মুখে উক্ত সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। শেষ পর্যন্ত যে সরকারের সংবিৎ ফিরেছে সেটা ইতিবাচক। আমরা বলতে চাই, মাথাব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলা তার সমাধান হতে পারে না। মাথাব্যথার কারণ নির্ণয় করে যথাযথ চিকিৎসা করাই কাম্য।

ঘোষণা দিয়েও সরকার এবারের এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ করতে পারেনি। প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ করার ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী এবার বেশ প্রত্যয়ী ছিলেন। কিন্তু প্রতিটি পরীক্ষার প্রশ্নই ফাঁস হয়েছে। রীতিমতো ঘোষণা দিয়ে প্রশ্ন ফাঁস করা হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসের অপসংস্কৃতি রুখতে না পেরেই সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করার মতো উদ্ভট সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। গত রোববার কিছু সময়ের জন্য ইন্টারনেট বন্ধও করা হয়েছিল। এরপরও প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে এবং তা ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ঘটনায় প্রমাণ হয় যে, ইন্টারনেট বন্ধ করে ফাঁস বন্ধ করা সম্ভব হবে না। সরকারকে বুঝতে হবে যে, প্রশ্ন ফাঁস হওয়া আর ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিন্ন বিষয়। ইন্টারনেট কোন প্রশ্ন ফাঁস করে না, প্রশ্ন ফাঁস করে প্রশ্ন বিতরণ স্তরের কোন না কোন অশুভ চক্র। তারা ইন্টারনেটকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন বিকিকিনি করে।

ইন্টারনেটভিত্তিক ফেসবুক ছাড়াও হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার, ইমো প্রভৃতির মতো অ্যাপ ব্যবহার করেও প্রশ্ন বিকিকিনি হয়। স্মার্টফোনের ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলে ব্লটুথ বা শেয়ারইটের মাধ্যমেও দ্রুত প্রশ্ন আদান-প্রদান করা যায়। এসব ক্ষেত্রে সরকার কি ব্যবস্থা নেবে!

সরকারকে প্রশ্ন ফাঁসের উৎস সন্ধান করে সেটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে কোত্থেকে, কে বা কারা ফাঁস করছে সেটা খুঁজে বের করতে হবে। কাজটা কঠিন তবে অসম্ভব নয়। প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রশ্ন ফাঁসের শেকড়ে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রশ্ন ফাঁসের ধরন দেখে অনুমান করছে, প্রশ্ন বিতরণের স্তরে সেটি ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। আমরা বলতে চাই, প্রশ্ন ফাঁসের রহস্যের সূত্র তো কর্তৃপক্ষের জানাই আছে। হতে পারে প্রশ্ন বিতরণের স্তরে কমবেশি ১০ হাজার শিক্ষক বা কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত। তারপরও সরকার চেষ্টা করলে এত লোকের ভিড় থেকেও প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এজন্য গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে হবে। দু-একটি চক্রকে শনাক্ত করেও যদি আইনের আওতায় এনে সাজা দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যায় তাহলেও প্রশ্ন ফাঁস নিরুৎসাহিত হবে। প্রশ্ন ফাঁস মহামারী আকার ধারণ করার কারণ হচ্ছে, অপরাধীদের সাজা দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হচ্ছে না। প্রশ্ন ফাঁস করলে সাজা পেতে হয় না বরং নিজের পকেট ভারি করা যায়- এমন ধারণা থেকেই অনেকে এ অন্যায় কাজে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। সরকারকে যেটা করতে হবে সেটা হচ্ছে, উল্লিখিত ধারণার অবসান ঘটানো। এমন একটা বার্তা সবার কাছে পৌঁছানো জরুরি যে, প্রশ্ন ফাঁসকারীকে কঠোর সাজা পেতে হয়।