• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৬, ১৪ শাবান ১৪৪১

দৈহিক বৃদ্ধির নিম্নহার আশঙ্কাজনক

পুষ্টিহীন শিশুদের বিশেষ যত্ন নিতে হবে

| ঢাকা , রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯

জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ তাদের সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলেছে, বাংলাদেশের সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ৪৯ শতাংশ খর্বকায়। অর্থাৎ এদের উচ্চতা বয়সের তুলনায় কম।

ইউনিসেফের ২০১৯ সালের শিশুবিষয়ক বার্ষিক ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে গত মঙ্গলবার। প্রতিবেদনে দেশের শিশু পুষ্টির করুণ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ইউনিসেফ বলছে, দেশে ২৮ শতাংশ শিশু প্রয়োজনের চেয়ে কম ওজন নিয়ে জন্মায়। ৪৯ শতাংশ শিশুকে ঠিক সময়ে শালদুধ দেয়া হচ্ছে না। ছয় মাসের কম বয়সী ৫৫ শতাংশ শিশু শুধু বুকের দুধ খায়। অর্থাৎ এই বয়সী শিশুদের ৪৫ শতাংশ শিশু পুষ্টিসমৃদ্ধ এ খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এটা জানা যে, শিশুর খর্বকায়ত্বের পেছনে মস্তিষ্কের পুষ্টিহীনতাই দায়ী। বেড়ে ওঠার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে তাদের মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় না। ফলে শিশুর বিকাশ ব্যাহত হয়।

মূলত নগরায়ণ, বৈষম্য, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবজনিত ঝুঁকি এবং মানবিক সংকট-এসবই শিশু পুষ্টিতে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। তবে বাংলাদেশে পুষ্টির সংকট শুরু হয় সন্তান নেয়ার পরিকল্পনা থেকেই। এই চক্র অব্যাহত থাকে কম ওজনের শিশু জন্ম, মানসম্মত খাবার না পাওয়া এবং দুর্বল খাদ্যাভ্যাসে। অপর্যাপ্ত খাদ্য গ্রহণ অথবা ঘন ঘন সংক্রমণ ও প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান যেমন- আমিষ, শর্করা, তেল, ভিটামিন ও খনিজ লবণ ইত্যাদি উপাদানের ঘাটতির কারণে পুষ্টিহীনতা দেখা দেয়। শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগলে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা বয়স অনুপাতে খর্বাকৃত, কৃশকায় ও কম ওজন নিয়ে বেড়ে ওঠে। ফলে এসব শিশু রোগা, পাতলা, দুর্বল খিটখিটে মেজাজের হয়। এর ফলে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

শিশুর অপুষ্টি রোধ করতে হলে শিশুকে দুই বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতেই হবে। মায়ের অনুপস্থিতি কিংবা স্বাস্থ্যগত কারণে একান্ত বাধ্য হলে বিকল্প খাদ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। দরিদ্র পরিবারের শিশুদের অপুষ্টি রোধকল্পে কেবল শিশুর স্বাস্থ্য সমস্যা বিবেচনা করলেই চলবে না, শিশুর মায়ের স্বাস্থ্যের দিকটিতেও লক্ষ্য রাখতে হবে। কেননা একজন সুস্থ মা-ই একজন সুস্থ শিশুর জন্ম দিতে পারেন।

শিশুকে সময়মতো সবগুলো টিকা দিতে হবে। দুই বছর পর থেকে নিয়মিত কৃমিনাশক বড়ি খাওয়াতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কখনও কোন ওষুধ খাওয়ানো যাবে না। সবসময় শিশুকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

আমাদের সমাজে শিশুকে খাওয়ানোর ব্যাপারে নানা রকম কুসংস্কার বা ভুল ধারণা রয়েছে। যেমন শিশুর অসুখ হলে তার স্বাভাবিক খাওয়া বন্ধ করে দেয়া, ডায়রিয়া হলে মায়ের দুধ খাচ্ছে এমন শিশুর মাকে শাকসবজি খেতে না দেয়া। বাড়তি খাবার খেলে শিশুর পাতলা পায়খানা হয় অথবা শুধু দামি খাবারে বেশি পুষ্টি থাকে ইত্যাদি। এসব কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পরিবারের সবাইকে স্বাস্থ্যগত ও পুষ্টিগত জ্ঞান বাড়াতে হবে। পুষ্টিহীন শিশুদের বিশেষ যত্ন নিতে হবে এবং নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে। যেহেতু প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলের অভাবে শিশুরা পুষ্টিহীনতায় ভোগে- তাই এ ধরনের উপাদান যেসব খাবারে আছে সেসব খাবার বেশি করে খেতে দিতে হবে।

  • আমলাদের দৌরাত্ম্য অব্যাহত

    প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের বিকল্প নেই

    চীনা অর্থায়নে গৃহীত ২৭টি প্রজেক্টের কাজে কাক্সিক্ষত গতি নেই। লালফিতার দৌরাত্ম্যে শম্বুকগতিতে চলছে প্রকল্পের কাজ। প্রতিটি প্রকল্প