• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৪ সফর ১৪৪১

আবরার হত্যা

পুলিশের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০১৯

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পেটানোর খবর জানতে পেরেছিল চকবাজার থানার পুলিশ। আবরারের হামলাকারীদেরই একজন পুলিশকে খবর দিয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম বুয়েটে গিয়েও কোন ব্যবস্থা নেয়নি, তারা বসে ছিল ওয়েটিং রুমে। পুলিশ বলছে, ছাত্রলীগ নেতারা তাদের হলের ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। ওয়েটিং রুমে ঘণ্টাখানেক বসে থেকে পুলিশের টিমটি ফিরে গিয়েছিল। এ নিযে গণমাধ্যমগুলো বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

পুলিশ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে আবরারকে হয়তো প্রাণ দিতে হতো না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব-কর্তব্য কী সেটা উল্লিখিত পুলিশ টিমের না জানার কথা নয়। তাদের প্রথম কাজ ছিল, হামলা থামানো। সেটা না করে তারা হামলাকারীর নির্দেশমতো ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করেছে। কেউ যদি পুলিশকে হলে প্রবেশ করতে বাধা দিয়েও থাকে তখন হল কর্তৃপক্ষ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেত, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেত। তবে কোনটিই উক্ত পুলিশ টিম করেনি।

আবরারকে আরও পেটানো হবে নাকি পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হবে- ছাত্রলীগের সেই সিদ্ধান্তের জন্য তারা সেখানে ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করেছে। ঘণ্টাখানেক পর ছাত্রলীগ সিদ্ধান্ত দিয়েছে নিষ্ক্রান্ত হও। পুলিশ সাহেবরা নিষ্ক্রান্ত হয়েছেন।

আমরা প্রথমে জানতে চাইব যে- দায়িত্ব পালনের শপথ নেয়ার সময় পুলিশ কি আইন মেনে নাকি ছাত্রলীগের নির্দেশনা মেনে কাজ করার অঙ্গীকার করেছিল। বুয়েটের ঘটনায় প্রশ্ন জাগে, পুলিশ কি আদতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নাকি ছাত্রলীগের ক্যাডারদের নির্দেশ পালনকারী বাহিনী। ছাত্রলীগের নির্দেশ পালনের জন্যই কি দেশে পুলিশ বাহিনী রাখা হয়েছে কিনা সেটা আমরা জানতে চাই। অতীতেও পুলিশকে ছাত্রলীগের নির্দেশ মানতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের অনেক আন্দোলনে পুলিশ-ছাত্রলীগ এক হয়ে হামলা চালিয়েছে। পুলিশ-ছাত্রলীগের এ আঁতাতেরই বলি হয়েছে আবরারের মতো সাধারণ শিক্ষার্থী।

আমরা বলতে চাই, আবরার হত্যার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে। নাগরিকদের জানমাল রক্ষার যে মৌলিক দায়িত্ব সেটা পালন করেনি উল্লিখিত পুলিশ টিম। নাগরিকদের জানমাল রক্ষা করে না এমন কারও পুলিশ বাহিনীতে রাখার কোন প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি না।

আবরার হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদককে মামলায় আসামি করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। আমরা বলতে চাই, কোন অভিযুক্ত ব্যক্তি যেন ছাড় না পায়। পুলিশের পক্ষপাতহীনভাবে কাজ করতে হবে। মামলার তদন্ত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে হবে। শক্ত চার্জশিট দিতে হবে। মামলাকে যেন ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে।