• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবন ১৪২৫, ১৮ জিলকদ ১৪৪০

পাটকল শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো বিবেচনা করুন

| ঢাকা , শুক্রবার, ১৭ মে ২০১৯

বকেয়া মজুরি পরিশোধসহ ৯ দফা দাবিতে ধর্মঘট করছেন পাটকল শ্রমিকরা। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচিও পালন করছেন তারা। পাটকল শ্রমিক নেতারা বলেছেন, তাদের দাবি আদায়ে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নেয়নি। আগামী শনিবারের মধ্যে দাবি মানা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে তারা সরকারকে হুঁশিয়ার করেছেন। গত মাসেও পাটকল শ্রমিকরা আন্দোলনে নেমেছিলেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের ভিত্তিতে তারা আন্দোলন স্থগিত করেন। তারপর কোন দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা আবার আন্দোলন শুরু করেছেন। অর্থমন্ত্রী প্রশ্ন তুলে বলেছেন, পাট খাতে আর কতদিন অর্থায়ন করব। গত ১০ বছরে ৭ হাজার কোটি টাকা দেয়া হয়েছে।

পাট খাতে লোকসান হচ্ছে না লাভ হচ্ছে সে বিতর্কে না গিয়ে বলা যায়, কর্মরত শ্রমিকরা বিধি মোতাবেক বেতন-ভাতা পাওয়ার দাবি রাখেন। মাসের পর মাস বেতন বকেয়া থাকলে শ্রমিকদের পেটে টান পড়বেই। বকেয়া বেতন পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েও সেটা পূরণ করা হচ্ছে না কেন, সেটা একটা প্রশ্ন। বেতন পরিশোধ করে শ্রমিকদের কাজে ফিরিয়ে বাকি দাবি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করা যেত। বিজেএমসির চেয়ারম্যান বলেছেন, বকেয়া পরিশোধের জন্য সরকারের কাছে ৩৩৮ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। আমরা জানতে চাই, টাকা ছাড় করতে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে কেন। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের টাকা ছাড়ে ফাইল চালাচালি হচ্ছে। অথচ প্রকল্প পরিচালকদের অর্থ ব্যয়ে অবারিত স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। কোন কাজ করলে শ্রমিক অসন্তোষ বাড়বে আর কোন কাজ করলে দুর্নীতি বাড়বেÑ সেটা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিরা বোঝেন কিনা, সে প্রশ্ন উঠেছে।

পাট খাতে আর কতদিন ভর্তুকি দেয়া হবে সেই প্রশ্ন তুলেছেন অর্থমন্ত্রী। ১০ বছরে ৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়ার হিসাব দিয়েছেন তিনি। আমরা জানতে চাই, একেকটি ব্যাংকে কত টাকা ঋণখেলাপি হয়েছে। ফারমার্স ব্যাংকের মালিকের পিঠ রক্ষা করতে রাষ্ট্রকে কত টাকা গচ্চা দিতে হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত পাট খাত লোকসানি কেন, সেটাও আমরা জানতে চাই। বেসরকারি পাটকলগুলো ব্যবসা করতে পারলে সরকারিগুলো পারে না কেন। রাষ্ট্রায়ত্ত কোন খাতকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা গেছে সেটা নিয়ে গবেষণা হতে পারে। এ সময়ে বেশি দাম দিয়ে নিম্নমানের পাট কিনলে তার দায় কার? প্লাস্টিক বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেই, পাটপণ্যে বৈচিত্র্য নেই, পাটের অভ্যন্তরীণ বাজার বাড়ানো বা বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের কার্যকর চেষ্টা নেই, পাট চাষ বাড়ানোর উদ্যোগ নেই। করণীয় কাজে নিরুদ্যম হলেও সরকারি প্রতিষ্ঠানে লুটপাট করায় এক শ্রেণীর চাকুরেদের উদ্যমের অভাব নেই। পাটকল শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার প্রতি আমাদের সম্মান আছে। আমরা চাই তাদের যৌক্তিক দাবি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করুক। শ্রমিকরা আন্দোলন করতে পারে তবে এমন কিছু করা ঠিক নয়, যাতে জনজীবনে ভোগান্তি তৈরি হয়। সড়ক বা রেলপথ অবরোধে আমাদের সমর্থন নেই।