• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮ ১ রমজান ১৪৪২

পবিত্র মাহে রমজান

| ঢাকা , শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২০

আবার ফিরে এলো পবিত্র মাহে রমজান। দীর্ঘ এক মাসব্যাপী রোজা রেখে মুমিন মুসলমানরা আহারে-বিহারে, কর্মে ও চিন্তায় সংযম পালন করবেন। সংযমের মধ্য দিয়ে আল্লাহর রহমত প্রার্থনা করবেন। রমজানের মাস হলো রহমতের মাস, বরকতের মাস। এ মাসটির বিরাট তাৎপর্য রয়েছে ইসলামের ইতিহাসে। এ মাসেই নাজিল হয়েছিল আল্লাহর পাক কালাম কোরআন শরিফ। শান্তির ধর্মে দীক্ষা নিয়ে আরব দেশের বহুগোষ্ঠী ও গোত্রে বিভক্ত কোরেশগণ এক নতুন জীবনদর্শনকে আশ্রয় করে কলহ-বিবাদ ভোলে। ক্রমে ইসলাম ধর্ম তার অন্তর্নিহিত শক্তির জোরে ছড়িয়ে পড়ে সারাবিশ্বে। মুসলিম উম্মাহর সাধনাসিদ্ধির জন্য ত্যাগ, সংযম ও আত্মশুদ্ধির পথ সেদিন দেখিয়েছিল পবিত্র মাহে রমজান। এই আত্মশুদ্ধির জন্য কিছু কঠোর অনুশাসন অবশ্য পালনীয়। তা হলো দিবাভাগে পানাহারে বিরত থেকে ক্ষুৎ-পিপাসার্তের সঙ্গে একদিকে সহমর্মিতা স্থাপন, তাদের দুঃখকষ্ট নিজের মধ্যে অনুভব করা, অন্যদিকে সংযমের মাধ্যমে আত্মার উন্নতি ও আধ্যাত্মিকতার পথে চলার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা।

লোভ মোহ ক্রোধকে সংযত করে মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও প্রীতির মাধ্যমে পারস্পরিক কল্যাণ সাধনের দীক্ষা গ্রহণের জন্য নিবেদিত এই পবিত্র ও সুমহান মাসটি। বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতার বাড়াবাড়ি হলে সংযমের সীমা লঙ্ঘিত হয়। অনেকে এটা বিস্মৃত হয়ে প্রকাশ্যে পানাহার বন্ধের নামে জোরজবরদস্তির পথ ধরেন, এমনকি ভিন্ন ধর্মীয়দের জন্যও হোটেল রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখতে অতিরিক্ত উৎসাহ দেখান। ধর্মের মহৎ শিক্ষা ও সংযমের প্রকৃত অর্থ গ্রহণ না করে শুধু তার বাহ্যিক বিধানগুলো সবার ওপর চাপিয়ে দেয়া কতখানি যুক্তিসঙ্গত তা ভেবে দেখা হয় না। ধর্মীয় আচার-আচরণের মূল কথা হলো নিষ্ঠার সঙ্গে, শৃঙ্খলার সঙ্গে শান্ত ও নিরুদ্বিগ্নচিত্তে নিজেকে আল্লাহর রাহে সমর্পণ করা এবং আপন দৃষ্টান্ত দিয়ে অপরকে উদ্বুদ্ধ করা। যে সামাজিক অনাচার, লোভ-লালসা আজ সমাজ জীবনকে কলুষিত এবং অস্থির করে তুলছে তা থেকে মানুষকে সংযত রেখে ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার প্রতি নজর দেয়া।

এবারের পবিত্র রমজানে মানব জাতি এক মহাসংকটের মোকাবিলা করছে। করোনাভাইরাসের আক্রমণে সারা দুনিয়ায় প্রতিনিয়ত মানুষ মারা যাচ্ছে। মরণঘাতী এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনও কোন প্রতিষেধক বা প্রতিরোধক আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়নি। অবশ্য প্রচেষ্টা চলছে প্রতিষেধক আবিষ্কারের। আমরা আশা করব বিজ্ঞানীরা যথা শীঘ্রই করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে সক্ষম হবেন।

এবারের পবিত্র রমজানে আশা করব আত্মশুদ্ধির অনুশীলনের মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা আবার সংযমের আদর্শ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন। আপন নৈতিক শক্তি দিয়ে প্রতিহত করতে হবে সমাজের অশুভ শক্তিকে। আল্লাহর প্রতি ভক্তির প্রদর্শনী নয়, নম্রচিত্তে তার নির্দেশ পালনের শক্তির অগ্নিপরীক্ষা হয় পবিত্র রমজানে।

আজকের সংকটময় পরিস্থিতিতে পবিত্র রমজানের এই মাসে প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মুসল্লির বক্তব্য হচ্ছে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে চলমান মহাযুদ্ধে যার যার সামর্থ্য ও অবস্থান অনুযায়ী অংশগ্রহণ করা। মানবতার চরম উৎকর্ষতা প্রদর্শন করে আক্রান্ত ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো। আমরা লক্ষ্য করছি মানব জাতির এই দুঃসময়ে ধর্ম নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে এবং করোনাভাইরাস সম্পর্কে ধর্মীয় ব্যাখ্যার নামে মানুষকে বিপথগামী করা হচ্ছে। যারা ধর্মকে ব্যবহার করে, ধর্মের অপব্যখ্যা করে মানুষের বিপদ আরও বাড়িয়ে তুলছেন আরও সংকটে ফেলছেন তাদের প্রতি আমাদের বিনীত অনুরোধ এই মহাবিপদের সময় ধর্মকে নিজ সংকীর্ণ স্বার্থে ব্যবহার করে মানুষকে বিপদগামী করবেন না, বিপদগ্রস্ত করবেন না। এটা পবিত্র মাহে রমজানের শিক্ষা নয়, এটা পবিত্র কোরআনের শিক্ষা নয়।

সিয়ামের সাধনা এই পবিত্র রমজান মাসে যে দুর্লভ সুযোগ এনে দেয় বৎসরান্তে, তাকে অন্তর দিয়ে গ্রহণ ও পালন করেই সারা বছরে জীবনের চলার পথকে আলোকিত করা সম্ভব। পবিত্র রমজান মাসের শিক্ষাকে সামাজিক জীবনে পরিব্যাপ্ত করে দিতে হবে। সমাজের সব স্তরে সর্বমানবের মধ্যে আত্মসংযমের এই শিক্ষা সার্থক করতে হবে- এই হোক মাহে রমজানের সংকল্প।