• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ মহররম ১৪৪১

পবিত্র আশুরা

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আজ পবিত্র আশুরা। এ দিনটি মুসলিম জাহান শোকের দিবস হিসেবে পালন করে থাকে। কারবালা প্রান্তরে এজিদ সেনাবাহিনী পাঠিয়ে ইমাম হোসাইন (রা.) ও তার পরিবারবর্গ এবং সঙ্গী-সাথীদের হত্যা করেছিল। ফোরাত নদীর কূল আটকে দিয়ে পিপাসার্ত নর-নারী-শিশুদের করুণ হত্যাকান্ডের স্মরণে ১০ মহরম বা পবিত্র আশুরা পালন করা হয়।

এই পবিত্র দিনটি শোক দিবস হিসেবে পালন করার সঙ্গেই আমরা সমধিক পরিচিত। কিন্তু আশুরার তাৎপর্য ও পবিত্রতার প্রধান কারণগুলো ইসলামের বিভিন্ন ঘটনাবলি থেকে অর্জিত হয়েছে। মহানবী হজরত মোহাম্মদ (স.)-এর কাছে প্রথম অহি নিয়ে ফেরেশতা জিব্রাইল (আ.) ধরাধামে এসেছিলেন এই পবিত্র দিনটিতে। পৃথিবীর সর্বপ্রথম মানব আদম (আ.) এই দিনেই জন্মলাভ করেছিলেন।

ইসলামের আবির্ভাবের অর্থাৎ মহানবী (স.) কর্তৃক ইসলাম প্রচারের বহু আগে থেকেই পবিত্র আশুরা পালিত হয়ে আসছে। পবিত্র আশুরাকে ঘিরে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে পরবর্তী সময়ে যুক্ত হয়েছে কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা। এই মর্মান্তিক ঘটনার স্মরণই এখন পবিত্র আশুরা পালনের মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর একটা বড় কারণ হলো, ধর্মের নাম করে অধর্ম ও অন্যায়ের অশুভ শক্তি সেদিন ইসলামের সত্যবাণী ও ন্যায়-ধর্মকে আঘাত করেছিল। নিয়েছিল প্রতারণার আশ্রয়।

আরবে উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা আমির মাবিয়ার পুত্র এজিদ ইসলামের প্রকৃত অনুসারীদের ধ্বংস ও পদানত করার চক্রান্ত করেছিল। সেদিন দ্বীন ও সত্যের জন্য ইমাম হোসাইন (রা.) এজিদের বিপুল বাহিনীর কাছে মাথানত না করে যুদ্ধ করে শাহাদতবরণ করেছিলেন তার বাহাত্তরজন সঙ্গীকে নিয়ে। ইমাম হোসাইনের পরিবার-পরিজনকে এজিদের বাহিনী নির্মমভাবে হত্যা করে। সেদিন ন্যায়-আদর্শের জন্য যে চরম আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত রেখে গিয়েছেন হজরত ইমাম হোসাইন (রা.), এ শোকের মাতমের অনুষ্ঠানে তা বিস্মৃত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বাংলার বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন ‘ত্যাগ চাই, মার্সিয়া ক্রন্দন চাহি না।

আজকের দিনে যখন আমরা এদেশে পবিত্র আশুরা পালন করছি, তখন চারদিকে এজিদীয় প্রেতাত্মার সহচররা ধর্মের নামে এক ব্যাপক অধর্ম ও অসত্যকে আশ্রয় করে দেশ এবং সমাজজীবন বিষবাষ্পে আচ্ছন্ন করতে উদ্যত।

পবিত্র আশুরার দিনে প্রকৃত ধার্মিক সত্যসেবী ইমানদার মুসলিমদের এই সত্যকে উপলব্ধি করতে হবে, এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। শোকে আত্মহারা হয়ে এই পবিত্র আশুরার দিনে হযরত ইমাম হোসাইনের (রা.) ত্যাগ ও প্রাণ বিসর্জনের প্রকৃত শিক্ষাকে বিস্মৃত হওয়া চলবে না।

আজ যারা ধর্মের নাম করে সঙ্কীর্ণতা ও ঘৃণা ছড়ায় তারা কারবালা প্রান্তরে হযরত ইমাম হোসাইনের (রা.) দৃঢ়তা, সততা, ধৈর্য ও ধর্মনিষ্ঠা থেকে কিছুই শিক্ষা পায়নি।

আগেই বলা হয়েছে, পবিত্র আশুরার এই দিনটি বহু প্রাচীনকাল থেকে পালিত হয়ে আসছে। তারপর সত্য-ধর্ম ইসলামের কঠিন এক অগ্নিপরীক্ষার মুহূর্ত এই দিনটিতে সংযোজিত করেছে এক নতুন ও মহান মাত্রা। তা হলো- ত্যাগ, দুঃখ ও বেদনার মধ্য দিয়ে এবং আত্মাহুতির মাধ্যমে ন্যায়-ধর্মকে উচ্চে তুলে ধরার দীক্ষা, যা আজ সমগ্র মুসলিম জাহানের অনুপ্রেরণার উৎস। পবিত্র আশুরার এই শোকদিবসের শিক্ষা হলো- অত্যাচারের কাছে মাথা নত না করা, মিথ্যার কাছে নতি স্বীকার না করা। তাই হজরত ইমাম হোসাইনের (রা.) শাহাদতবরণ একই সঙ্গে শোক ও গৌরবের সমাচার। তার সেই ত্যাগের গৌরব সমগ্র মসুলিম জাহানের অন্তরকে উদ্ভাসিত করুক, অনুপ্রাণিত করুক ঈর্ষা-দ্বেষ-কলুষমুক্ত সমাজ গঠনে। এটাই হবে তাঁর শাহাদতবরণে আমাদের শোক, সত্য-ধর্মের পথে চলার পাথেয়। শুধু শোকের মাতম নয়, ত্যাগের মাহাত্ম্যে আলোকিত হয়ে উঠুক মুসলিম জাহানসহ সকল মানবসমাজের হৃদয়।