• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫, ৩ জিলহজ ১৪৩৯

পদ্মা ও গড়াই-এর অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করুন

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৭ মে ২০১৮

কুষ্টিয়ার পদ্মা নদী ও গড়াই নদে ২১টি বালুমহাল সাত বছর ধরে সরকার ইজারা দিতে পারছে না। আদালতে রিট করে প্রভাবশালী কয়েক ব্যক্তি এগুলো দখলে রেখেছে। এতে সাত বছরে সরকার কমপক্ষে ১৩ কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. জহির রায়হান গত ১৮ এপ্রিল খুলনা বিভাগীয় কমিশনারকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ২১টি বালুমহাল নিয়ে রিট চলমান থাকায় বাংলা ১৪১৭ সন থেকে চলতি বছর পর্যন্ত সেগুলো ইজারা দেয়া সম্ভব হয়নি। কতিপয় স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কিছু অসাধু কর্মকর্তার কাছ থেকে বাংলা ১৪১৭ সনে ছয় মাস মেয়াদে বালু উত্তোলনের অনুমতি পায়। এরপর দীর্ঘ সাত বছর ধরে তারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। পদ্মা নদী ও গড়াই নদের পার্শ্ববর্তী বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছর বর্ষার সময় নদীতে প্রচুর পরিমাণে বালু আসে। বর্ষা চলে গেলে পুরো নদ-নদীজুড়ে বালুর স্তূপ পড়ে যায়। দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই বালুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এজন্য বালু বিক্রির ব্যবসা দখলে রাখতে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মরিয়া। বিভিন্ন জায়গায় নদীতীরে খনন যন্ত্র ও পাইপের মাধ্যমে বালু তোলা হচ্ছে। তীরেই বিশাল বিশাল এলাকাজুড়ে বালুর স্তূপ করা হয়েছে। এসব বালু বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আয় করছেন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।

অনুমোদিত বালুর তুলনায় ওই স্বার্থান্বেষী মহল কয়েক কোটি গুণ বেশি বালু উত্তোলন করলেও সাত বছরে তারা কাক্সিক্ষত পরিমাণ বালু উত্তোলন করতে পারেননিÑএমন ভুল তথ্য ও ব্যাখ্যা দিয়ে হাইকোর্টে রিট করেছে। এতে প্রতি বছর প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ টাকা করে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বালুমহালগুলো দখল করে বিনা খরচে কোটি কোটি টাকা আয় করেছে। এতে সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। অথচ এসব যাদের দেখার কথা তারা চুপ করে বসে আছে। কেউ কিছু দেখছে না, কারো কোন মাথাব্যথা নেই। তবে শুধু অবৈধ বালু উত্তোলন নয়, আমরা দেখছি দেশের অনেক জায়গায় গোটা নদীই দখল করে নেয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক বন দখল করে প্রভাবশালীদের বাগান বাড়ি, শিল্প-কারখানা বানানো হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাও যেন অপরাধ।

উল্লিখিত, অসাধু চক্র কিভাবে আদালত থেকে বালু উত্তোলনের মেয়াদ বাড়ায় সেটা অবশ্যই জানা দরকার। এ বিষয়ে সরকারি কৌঁসুলিরা কেন নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে পারে না বা আদালতে তাদের এই দুর্বলতা ও ব্যর্থতার কারণ কি সেটাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে কারো কোন গাফিলতি থাকলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা মনে করি, এসব স্বার্থান্বেষী মহলকে কোনভাবেই ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। যারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ গ্রাস করে অবৈধ অর্থের পাহাড় বানায় তারা দেশের শত্রু। অবিলম্বে তাদের মুখোশ উন্মোচন এবং মূলোৎপাটন করা দরকার। সরকারকে এসব অনিয়ম বন্ধে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।