• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ মহররম ১৪৪১

নিরাপদ পানির খোঁজে উগান্ডা সফর সরকারি অর্থে প্রমোদ ভ্রমণ

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

চট্টগ্রাম ওয়াসা ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ৪১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিরাপদ পানি ও উন্নত পয়োনিষ্কাশন সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ নিয়েছেন উগান্ডায়।

প্রশিক্ষণ গ্রহণকালে প্রত্যেকে ‘পকেট মানি’ হিসেবে পেয়েছেন দুই লাখ টাকা। একই প্রশিক্ষণ নিতে নেদারল্যান্ডসেও গেছেন ১৫ জন কর্মকর্তা। প্রশিক্ষণ বাবদ খরচ হয়েছে ৫ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘চিটাগাং ওয়াটার সাপ্লাই ইমপ্রভমেন্ট অ্যান্ড স্যানিটেশন প্রজেক্ট’ হাতে নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে উগান্ডার ‘ন্যাশনাল ওয়াটার অ্যান্ড স্যুয়ারেজ করপোরেশন’ ও নেদারল্যান্ডসের একটি প্রতিষ্ঠান পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে। চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি একেএম ফয়জুল্লাহ বলেছেন, বিশ্বব্যাংকের পরামর্শেই এই প্রশিক্ষণ নেয়া হয়েছে। এ নিয়ে গত সোমবার একটি জাতীয় দৈনিক বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

দুর্নীতিতে বাংলাদেশ আর উগান্ডার অবস্থান একই কাতারে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) সূচক অন্তত এমন তথ্যই জানাচ্ছে। টিআই’র দুর্নীতির সূচকে উভয় দেশই ১৩ নম্বর অবস্থানে রয়েছে। দুর্নীতি ছাড়া আর কোন বিষয়ে উগান্ডা বাংলাদেশের সমান্তরালে অবস্থান করছে বলে জানা যায় না। দেশটির ৬১ শতাংশ মানুষ এখনও নিরাপদ পানি পায় না, ৭৫ শতাংশ মানুষ উন্নত পয়োনিষ্কাশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এমন একটি দেশ, চট্টগ্রাম ওয়াসার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হলো কীভাবে- সেটা একটা প্রশ্ন। আর উগান্ডাতে কেন ৪১ জন কর্মকর্তা-কর্মাচারীকে প্রশিক্ষণ নিতে গেলেন, সেখানে তারা কী শিখলেন- সেটা আমরা জানতে চাই। যেখানে নেদারল্যান্ডস গেছেন ১৫ জন, সেখানে উগান্ডায় পাঠানো হয়েছে ৪১ জনকে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে যে, এটা কী প্রশিক্ষণ ছিল; নাকি প্রমোদ ভ্রমণ ছিল।

প্রশিক্ষণের নামে প্রমোদ ভ্রমণের অপসংস্কৃতি দেশে চালু রয়েছে। ত্রাণ বা অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য একেক বিভাগের কর্তাব্যক্তি একেক দেশে যাচ্ছেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন মশাবাহিত বিভিন্ন সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণের অভিজ্ঞতা জানতে সিঙ্গাপুরে গেছেন বলে জানা গেছে। প্রশ্ন হচ্ছে- উগান্ডা নিরাপদ পানি বা উন্নত পয়োনিষ্কাশন প্রশ্নে কী অভিজ্ঞতা বা জ্ঞান অর্জন করেছে- সেটা শেখার জন্য ৪১ কর্তব্যাক্তিকে সেখানে যেতে হলো। জনগণের অর্থ হরিলুট করতে করতে আমলারা সাধারণ কান্ডজ্ঞান খুইয়ে ফেলেছেন বলে মনে হয়।

উগান্ডা বা নেদারল্যান্ডসে প্রশিক্ষণের নামে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে সেটা সুদে-আসলে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষকেই পরিশোধ করতে হবে। প্রশিক্ষণের নামে যারা রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় করছে, তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদুক) ব্যবস্থা নিতে হবে। উগান্ডায় প্রশিক্ষণ নেয়ার বিষয়টি দুদুক খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে- আমরা এমনটাই দেখতে চাই।