• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০, ০১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৩ জিলকদ ১৪৪১

দ্রব্যমূল্যের আবার বৃদ্ধি-

নিত্যপণ্যের দাম আদৌ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে কি

| ঢাকা , রোববার, ০৫ জানুয়ারী ২০২০

পিয়াজের দাম আবারও বেড়েছে। রাজধানীতে গত শুক্রবার প্রতি কেজি পিয়াজ ১৮০ টাকা দরেও বিক্রি হয়েছে। দাম বৃদ্ধির ঘটনা শুধু পিয়াজের মধ্যেই থেমে নেই। শাক-সবজি, মাছসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এর একদিন আগেই গত বৃহস্পতিবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করে বলে ছিলেন, রমজান মাসের আগে যেন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম না বাড়ে। তার এ অনুরোধের পরই নিত্যপণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে।

বাজারে নতুন পিয়াজ এসেছে। কয়েকদিন আগেও দেশি পিয়াজ কমবেশি একশ’ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। আমদানি করা পিয়াজের দর ছিল আরও কম। সেখান থেকে এর দর আবার প্রায় দুইশ’ টাকা হলো কেন সেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শীত মৌসুমের শাক-সবজির দর কেন বাড়ছে সেটাও সাধারণ মানুষের জিজ্ঞাসা। ভোজ্যতেল ও চিনির দাম বাড়ছে। নতুন বছরের শুরতেই মূল্যস্ফীতির চাপে পড়ে গেছেন সাধারণ মানুষ। ধারণা করা হচ্ছে, এ চাপ আগামীতে বাড়বে বৈ কমবে না।

অতীতেও দেখা গেছে যে, বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে দ্রব্যমূল্য না বাড়ানোর অনুরোধ করার পরদিনই দাম বেড়ে গেছে। বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের বৈঠক বাস্তবিকই দাম বাড়ানোর বৈঠকে পরিণত হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বৈঠকে ‘ভাইরে আগুনের মধ্যে বাস করছি’ বলে কাকুতি-মিনতি করুন বা ‘দ্রব্যমূল্য না কমলে ব্যবস্থা নেয়া হবে’ বলে হুঁশিয়ারিই দেন না কেন, কোন কিছুতেই দ্রব্যমূল্য কমে না। রমজানে পণ্যেমূল্য যেন না বাড়ে-বাণিজ্যমন্ত্রীর এ সাবধান বাণীতে ব্যবসায়ীদের টনক বোধ হয় এখনই নড়ে গেছে। রামজানের ৪ মাস আগে থেকেই তারা বাড়তি মুনাফার সব আয়োজন সম্পন্ন করে রাখতে চাচ্ছেন বলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়।

এ দেশে ব্যবসায়ীরা রাতারাতি যেভাবে পণ্যমূল্য বাড়ান তার নজির বিশ্বের আর কোথাও আছে কিনা সেটা নিয়ে গবেষণা হতে পারে। ভারত পিয়াজ আমদানি বন্ধ করার ঘোষণা দেয়ার পর দিনই পিয়াজের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। সম্প্রতি আগে লবণের দাম রাতারাতি কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু দাম বৃদ্ধির জন্য অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয় না। কখনও কখনও লোক দেখানো অভিযানে নামেমাত্র জরিমানা করা হয়। যা তাদের অন্যায় মুনাফার তুলনায় কিছুই নয়। আমরা বলতে চাই, শুধু বৈঠক করে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। দুষ্টের দমন আর শিষ্টের লালন নীতি নিয়ে কাজ করতে হবে। অসাধু ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে তাদের ব্যবসার লাইসেন্সে বাতিল করতে হবে। মজুদদারি বন্ধ করা গেলে কৃত্রিম সরবরাহ সংকট দূর করা সম্ভব হবে। পণ্যের মূল্যও ধরাছোঁয়ার মধ্যে থাকবে বলে আমরা মনে করি।