• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১২ ফাল্গুন ১৪২৭ ১২ রজব ১৪৪২

নভেল করোনাভাইরাস নিয়ে কর্তাব্যক্তিদের অবৈজ্ঞানিক ভবিষ্যদ্বাণী জনস্বাস্থ্য নিয়ে তামাশার নামান্তর

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২০

নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তৃতির প্রশ্নে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা অনুমাননির্ভর ভবিষ্যদ্বাণী করছেন। দেশে এখন করোনাভাইরাস কোন স্তরে আছে, বা কবে এটি সংক্রমণের চূড়ায় পৌঁছাবে সে সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের বিজ্ঞানভিত্তিক কোন ধারণ নেই।

কারণ আর-শূন্য নামক যে পদ্ধতিতে রোগ সংক্রমণের বিজ্ঞানসম্মত ধারণা পাওয়া যায় দেশে সেই পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে না। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার একটি জাতীয় দৈনিক বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দৈনিক সংক্রমণ, মৃত্যু আরোগ্যর সংখ্যা দেখে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা অনুমানের ভিত্তিতে কাজ করছেন। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, অনুমাননির্ভর ভবিষ্যদ্বাণী করোনাভাইরাসে সংক্রমণ প্রশ্নে আগামীতে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।

নভেল করোনাভাইরাস কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করতে হলে এটা কোন স্তরে আছে বা আগামীতে কীভাবে কতটা বিস্তৃত হবে সে সম্পর্কে বিজ্ঞানভিত্তিক অনুমান করা জরুরি। প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশই আর-শূন্য পদ্ধতি অনুসরণ করে বোঝার চেষ্টা করেছে যে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কবে চূড়ায় পৌঁছেছে। এর ভিত্তিতেই দেশগুলো লকডাউন আরোপ, এর মেয়াদ বৃদ্ধি বা শিথিল করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে সম্পূর্ণ অনুমানের ভিত্তিতে লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। লকডাউন শিথিল করার পর কোভিড-১৯-এর সংক্রমণ বাড়ছে, মৃত্যু বাড়ছে। অথচ এখনও বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি প্রয়োগ করে করোনাভাইরাসের বিস্তৃতির প্রকৃত চিত্র উদঘাটনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

গত ফেব্রুয়ারির শুরুতে যখন প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হলো তখনই উল্লিখিত বিষয়ে প্রস্তুতি নেয়া জরুরি ছিল। জানা গেছে, আইইডিআরসি আর-শূন্য পদ্ধতি অনুসরণের পরিকল্পনা করেছিল। পরে অপর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্তের অজুহাতে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে। জনস্বাস্থ্য নিয়ে এই উদাসীনতা অবহেলার কারণ কী সেটা আমরা জানতে চাই। বিশ্বজুড়ে আর-শূন্য পদ্ধতির যে চর্চা হচ্ছে সেটা থেকে বিরত থাকা চরম বোকামি। সংশ্লিষ্টদের গাছাড়া ভাবের কারণে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হু হু করে বাড়ছে। আগামীতে সংক্রমণ বা মৃত্যুর সংখ্যা কোথায় গিয়ে পৌঁছাবে সেটা কেন জানে না, জানার চেষ্টাও করছে না।

আমরা বলতে চাই, বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করে নভেল করোনাভাইরাস সম্পর্কে আগাম ধারণা করতে হবে। এক্ষেত্রে পরীক্ষিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি আর-শূন্য অনুসরণ করতে হবে। এজন্য সরকারকে এখনি ব্যবস্থা নিতে হবে। জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় অবৈজ্ঞানিক অনুমান আর খেয়াল-খুশির কোন স্থান নেই বলে আমরা মনে করি।