• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১কার্তিক ১৪২৬, ১৬ সফর ১৪৪১

ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি নয়

| ঢাকা , বুধবার, ২২ মে ২০১৯

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি গ্রহণযোগ্য নয়। গত সোমবার গণভবনে তিনি এ কথা বলেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে গণভবনে আগত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি বলেন, সব ধর্মের মানুষ সমান অধিকার নিয়ে স্বাধীনভাবে সম্মানের সঙ্গে বাংলাদেশে বসবাস করবে। তিনি আরও বলেন, সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করে। নিজেদের অবহেলিত না ভেবে সব ধর্মের মানুষকে তিনি নিজ নিজ ধর্ম পালনের আহ্বান জানান।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন যে, ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি গ্রহণযোগ্য নয়। তবে বাস্তবতা হচ্ছে দেশে বিভিন্ন উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠী ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করে চলেছে। এর চরম রূপ হচ্ছে ধর্মীয় জঙ্গিবাদ। স্বার্থান্বেষী বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠী অনেক সময় উসকানি দিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধর্মীয় উন্মাদনা তৈরি করে। অতীতে দেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব গোষ্ঠীর লক্ষ্য হচ্ছে ধর্ম নিরপেক্ষ বাংলাদেশকে ধর্মীয় রাষ্ট্র পরিণত করা, দেশে সাম্প্রদায়িকতার দেয়াল তৈরি করা।

সংবিধানে সব ধর্মের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় প্রায়ই তাদের ধর্ম পালনে একটি গোষ্ঠীতে বাধার সম্মুখীন হয়। কেউ যেন ধর্ম পালনে বিঘ্ন তৈরি না করে সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। ধর্মাশ্রয়ী জঙ্গিদের কঠোর হাতে দমন করা হলেও বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক শক্তি বহাল তবিয়তেই আছে। দেশে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলাগুলোর কঠোর বিচার হয়নি। বরং পঁচাত্তর পরবর্তী সব সরকারই ধর্মীয় শক্তিগুলোর সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছে। যে কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় যথার্থ ভূমিকা পালন করছে না বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সরকারের কর্তব্য। আমরা আশা করব তার বক্তব্যের মর্ম রাষ্ট্রের দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে নিয়োজিত সবাই অনুধাবন করবে। সব ধর্মীয় গোষ্ঠীকেও এই বক্তব্য মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি কেউ যদি ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করে তবে সেই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেই হোক তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। আইন প্রয়োগ করা হলেই সাম্প্রদায়িক শক্তিকে দমন করা সম্ভব হবে।