• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০, ১৯ চৈত্র ১৪২৬, ৭ শাবান ১৪৪১

দ্রুত সাক্ষী সুরক্ষা আইন করুন

| ঢাকা , রোববার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সাক্ষী সুরক্ষা আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আইন মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ জমা দিয়েছিল আইন কমিশন। এরপর ৮ বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু সাক্ষীদের সুরক্ষায় কোন আইন প্রণয়ন করা যায়নি। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আইনটি ভেটিংয়ের পর্যায়ে আছে। শিগগিরই আইনটি পাস করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। জানা গেছে আইন কমিশনের সুপারিশ সাক্ষীদের নিরাপত্তা ও অধিকার, তাদের অধিকার ভোগ নিশ্চিত করা, সুরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য জানার অধিকার ও সাক্ষীর অঙ্গীকারসহ ১৯টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

দেশে বহু বছর ধরে সাক্ষীদের সুরক্ষার বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে। ফৌজদারি ও দেওয়ানি উভয় ধরনের মামলার সাক্ষীদেরকে বিভিন্ন সময় হামলা বা হয়রানির শিকার হতে দেখা গেছে। বিশেষ করে ফৌজদারি মামলার সাক্ষীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। এমনও দেখা গেছে যে, কোন কোন মামলার সাক্ষীকে হত্যাও করা হয়েছে। ফৌজদারি মামলার আসামিরা সাধারণত ভয়ংকর প্রকৃতির হয়। তারা যে কোন মূল্যে তাদের অন্যায়-অপরাধকে আড়াল করতে চায়। এক্ষেত্রে তারা সাক্ষীকে হয়রানি করার সহজ পথই বেছে নেয়। আবার দেখা গেছে, ধর্ষণ বা হামলার মতো গুরুতর অপরাধের মামলার ভিকটিমই একমাত্র সাক্ষী। সাক্ষীদের আইনি সুরক্ষার অভাবে অনেক মামলায় সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিতে হাজির হন না। অনেকে এ কারণে মামলাই করতে চান না। বিষয়টি প্রকারন্তরে ন্যায়বিচারের পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু হওয়ার পর সাক্ষী সুরক্ষার আইন করার বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপিত হয়। এরপর সরকার আইন করার পদক্ষেপ নেয়। তারই অংশ হিসেবে আইন কমিশন সুপারিশ তৈরি করেছে। আদালত বিভিন্ন সময় সাক্ষী সুরক্ষা আইনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। কিন্তু আগে আইনটি হয়নি। আজও বিভিন্ন মামলার সাক্ষী হামলা, হয়রানি এমনকি হত্যার শিকার হচ্ছেন। আর আইনমন্ত্রী হচ্ছে, হবে বলে আশ্বাসবাণী শুনিয়ে যাচ্ছেন। তার এই আশ্বাসে ভরসা করা যায় কি না- সেই প্রশ্ন রয়েছে। আমাদের মনে আছে, আইন সংশোধনের কথা বলে তিনি দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর যুদ্ধাপরাধের মামলার বিচার ঝুলিয়ে দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, বিদ্যমান আইনেই জামায়াতের বিচার করা সম্ভব। তারপরও তিনি সংশ্লিষ্ট আইনের দু-এক জায়গা সংশোধনের কথা বলেছেন। কিন্তু তার দুই মেয়াদের মন্ত্রীত্বেও সেটা করা হয়নি। সাক্ষী সুরক্ষা আইনের ক্ষেত্রেও এমন কিছু হচ্ছে কি না- সেই প্রশ্ন উঠেছে। আমরা বলতে চাই, দ্রুত সাক্ষী সুরক্ষা আইন করতে হবে। এক্ষেত্রে যেসব বাধা আছে তা দূর করতে উদ্যোগী হতে হবে।