• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০, ১৫ চৈত্র ১৪২৬, ২৯ রজব সানি ১৪৪১

ভোলায় ফেসবুক হ্যাককারীর পরিচয় শনাক্ত

দ্রুত বিচার করে শাস্তি দিন

| ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৯

ভোলার বোরহানউদ্দিনের হিন্দু ধর্মাবলম্বী যুবক বিপ্লব চন্দ্রের ফেসবুক আইডি কারা হ্যাক করেছিল সেটা জানা গেছে। ফেসবুকের সিঙ্গাপুরের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান কার্যালয় হ্যাকারের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে তথ্য দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রমতে হ্যাকারের নাম-পরিচয় জানা গেছে। উক্ত ফেসবুক আইডি হ্যাক করার পরই মেসেঞ্জারের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম ও মহানবী (সা.) সম্পর্ক কটূক্তি ছড়ানো হয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, হ্যাকারকে দ্রুতই গ্রেফতার করা হবে।

হ্যাকার শনাক্ত করতে পারার খবরটি স্বস্তিদায়ক। আমরা আশা করছি, দ্রুততার সঙ্গে উক্ত হ্যাকারকে গ্রেফতার করে কঠোর বিচার করা হবে। এখন যেহেতু এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, হ্যাকাররাই ধর্মীয় অবমাননাকর বক্তব্য ছড়িয়েছে সেহেতু বিপ্লব চন্দ্রকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। পাশাপাশি বিপ্লবসহ বোরহানউদ্দিনের সংখ্যালঘু সব মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তথাকথিত ‘তৌহিদি জনতা’ ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে বিপ্লবের ফাঁসি দাবি করেছে, হিন্দু সম্প্রদায়ের বসতভিটা ও উপাসনালয় ভাঙচুর ও লুট করেছে। হামলার শিকার ব্যক্তিরা এখনও আতঙ্কের মধ্যে আছেন।

ফেসবুক আইডি হ্যাকের কথা বিপ্লব নিজেই সংশ্লিষ্ট থানাকে জানিয়েছিল। হ্যাকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে এমন সন্দেহে পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে দু’জনকে গ্রেফতারও করেছে। এসব জেনেও একটি চক্র পরিস্থিতি ঘোলাটে করেছে এবং তারা সংঘাত-সংঘর্ষ ঘটাতে সফল হয়েছে। ঘটনা দেখে মনে হয়, একটি চক্র চেয়েছে যে সংঘাত-সংঘর্ষ ঘটুকু, মানুষ হতাহত হোক, হিন্দুদের ঘরবাড়ি লুট হোক, সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়–ক। ভোলার ঘটনায় হাটহাজারী থানায় হামলা চালানো হয়েছে। আমাদের ধারণা, অশুভ চক্রটি চেয়েছিল বোরহানউদ্দিন ও হাটহাজারীর মতো সারা দেশেই সাম্প্রদায়িক হামলা হোক। এ চক্রটি বহু দিন ধরেই দেশে সক্রিয় রয়েছে। প্রায় প্রতি বছরই তারা দেশের কোথাও না কোথাও সাম্প্রদায়িক সংঘাত-সংঘর্ষের জন্ম দিচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া আর হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘাড়ে বন্দুক রেখে তারা হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে চাচ্ছে। কক্সবাজারের রামু ও উখিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর, রংপুরে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

যারা সম্প্রদায়িক সংঘাত-সংঘর্ষে ইন্ধন দিচ্ছে তাদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, সাম্প্রদায়িক হামলা বা ফেসবুক আইডি হ্যাক করে সাম্প্রদায়িক হামলার উসকানি দেয়ার কোন ঘটনারই বিচার হয়নি। সরকার মুখে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা বলে কিন্তু যারা এ সম্প্রীতি নষ্ট করছে তাদের বিরুদ্ধে ন্যূনতম ব্যবস্থাও নেয় না। অভিযোগ রয়েছে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিরোধীরা ক্ষমতাসীনদের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই থাকে। আমরা বলতে চাই, ভোলার ঘটনার নেপথ্যে যারাই জড়িত আছে তাদের অবশ্যই খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। দেশ সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলার সব ঘটনার কঠোর বিচার করতে হবে।

ভোলার সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনায় হতাহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। যাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে তাদেরও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

  • বেতন বৈষম্য নারী উন্নয়নে বড় বাধা

    আইন করে দূর করুন

    পুরুষের সমান কাজ করে বা পুরুষের তুলনায় দীর্ঘ সময় কাজ করার পরও