• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২ পৌষ ১৪২৫, ৭ রবিউল সানি ১৪৪০

অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি

দৃঢ়তার সঙ্গে বাস্তবায়ন করুন

| ঢাকা , শুক্রবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রথম পর্যায় বাস্তবায়নের জন্য ৫ হাজার ৯৫০ জন অতি দরিদ্র উপকারভোগীর জন্য প্রায় ৫ কোটি টাকা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে থোক বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছিল। বিগত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে কাজ শুরু করে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ের বাস্তবায়ন সীমা মন্ত্রণালয় থেকে নির্ধারিত করে দেয়া হয়। কিন্তু নান্দাইল উপজেলায় উক্ত সময়ের মধ্যে ১২ ইউনিয়নের কোথাও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কাজ শুরু হয়নি। এ নিয়ে গত বুধবার সংবাদ খবর প্রকাশ করেছে।

নির্ধারিত সময়ে কাজ না হওয়ায় ১ম দফার ৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা অব্যয়িত অবস্থায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ফেরত যাবে। জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের সঙ্গে শ্রমিক বণ্টন নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের সমঝোতা না হওয়ায় নান্দাইল উপজেলায় এ নিয়ে ৩ দফায় প্রায় ১৫ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে নান্দাইল উপজেলায় ২ দফায় উল্লিখিত প্রকল্পের প্রায় ১০ কোটি টাকা ফেরত প্রদান করা হয়েছিল।

কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা), কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) এবং কর্মসৃজন প্রকল্প ইত্যাদি কর্মসূচির উদ্দেশ্যই হলো গ্রামীণ জনশক্তিকে কাজ দেয়া। এ উদ্দেশ্যেই সরকার এ প্রকল্পগুলো নিয়ে থাকে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় সরকার কর্তৃক বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর অন্যতম কর্মসৃজন প্রকল্প। এটি একটি কার্যকর উদ্যোগ হলেও এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ বাস্তবায়নের পথে বাধা সৃষ্টি করছে। কোন কোন ক্ষেত্রে দরিদ্রদের এ প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত করা গেলে এবং কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হলে এ হতশ্রীর পরিবর্তন হতে পারে। কর্মসৃজন প্রকল্পকে ভালো উদ্যোগ বলা হয় এ কারণে যে, এটি দ্বারা একটি নির্দিষ্ট সময়ে হলেও কিছু কর্মহীন মানুষের বেকারত্বের অবসান হচ্ছে।

সরকারের নেয়া এ রকম উদ্যোগ থেকে দরিদ্ররা বঞ্চিত হোক, সেটা আমরা চাই না। বাস্তবে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক নজরদারি ও হস্তক্ষেপই এরূপ সমস্যার সমাধান করতে পারে। নইলে সামগ্রিকভাবে দারিদ্র্য চক্র থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব নয়।