• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবন ১৪২৫, ১৯ জিলকদ ১৪৪০

দুর্নীতি এবং দুদকের বার্ষিক প্রতিবেদন

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯

মহামান্য রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদের কাছে বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত সোমবার জমা দেয়া সেই প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ভূমি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ রাষ্ট্রের প্রতিটি সেক্টরের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতি জেঁকে বসেছে। এর মধ্যে ভূমি, শিক্ষা আর স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি বেশি। সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি এত বিস্তৃত হয়েছে যে সেগুলো প্রতিরোধ করার জন্য দুদককে ১২০টি সুপারিশ করতে হয়েছে। এ নিয়ে গতকাল সংবাদ-এ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

টানা তৃতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছিল। এ নীতির কোন সুফল যে মেলেনি সেটা দুদকের প্রতিবেদন থেকে বোঝা যাচ্ছে। রাষ্ট্রের এমন একটি প্রতিষ্ঠানও খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে দুর্নীতি হয় না। এমনকি দুদকের একশ্রেণীর কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দেখা যাচ্ছে, সরকার যে বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে সেটাই আরও বেড়ে যায়। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হলো, অভিযান চালানো হলো, আত্মসমর্পণ নাটক হলো তারপরও মাদক বাণিজ্য বাড়ছেই। জিরো টলারেন্স নীতি এখন তার গুরুত্ব হারাতে বসেছে।

রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে স্বচ্ছতা আর জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করে সুশাসন নিশ্চিত করা না গেলে সরকারি দফতরগুলো দুর্নীতির আখড়া হয়েই থাকবে। আমলানির্ভর একটি সরকারের পক্ষে আদৌ সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে কিনা সেটা নিয়ে অনেকের সংশয় রয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সরকারের পুলিশ-নির্ভরতা। এটাও দেশে দুর্নীতির প্রসার ঘটিয়েছে। প্রশ্ন রয়েছে দুদকের ভূমিকা নিয়ে। ব্যাংক খাতের মতো বড় দুর্নীতির ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করার পরিবর্তে ছোট ছোট দুর্নীতি নিয়ে তারা বেশি ব্যস্ত। ব্যাংক খাতের যে ক’টি দুর্নীতি নিয়ে তারা কাজ করেছে সেখানে রাঘববোয়ালদের ছাড় দেয়া হচ্ছে, ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে চুনোপুঁটিদের বিরুদ্ধে। জাহালমের মতো নিরপরাধ ব্যক্তিকে জেল খাটতে হয়েছে দুদকের কারণে। দুর্নীতির অভিযোগ বাড়ছে কিন্তু দুদকের মামলার পরিমাণ কমে যাচ্ছে। মামলার তদন্ত নিয়ে; মামলা পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সর্ষের মধ্যে ভূত থাকলে ১২০টি কেন এর চেয়ে বেশি সুপারিশেও দুর্নীতি দূর হবে না। সবার আগে দুদককে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। আমলা বা পুলিশ নির্ভরতা কাটিয়ে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করলে দুর্নীতি প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি সফল হতে পারে।