• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০, ০১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৩ জিলকদ ১৪৪১

দক্ষ নার্স ও মিডওয়াইফ তৈরিতে উদ্যোগ নিন

| ঢাকা , সোমবার, ১৩ মে ২০১৯

নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে এবং শিশুমৃত্যু কমাতে দক্ষ নার্স ও মিডওয়াইফ প্রয়োজন। গতকাল রাজধানীতে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে আলোচকরা এ কথা বলেন।

একজন নারীর স্বীয় সম্মতিতে গর্ভধারণ থেকে শুরু করে প্রসব-পরবর্তী সেবা হচ্ছে নিরাপদ মাতৃত্বের আওতাধীন বিষয়। মাতৃত্বকে নিরাপদ করতে চিকিৎসকের পাশাপাশি নার্স বা মিডওয়াইফদের ভূমিকা অপরিহার্য। বিশেষ করে প্রসবকালীন ও প্রসবপরবর্তী সেবায় তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। দক্ষ নার্স ও মিডওয়াইফদের নিবেদিত সেবার কল্যাণে মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার কমিয়ে আনা সম্ভব। অতীতের তুলনায় দেশে মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার কমেছে। তবে দেশে এখনও সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে প্রতিদিন গড়ে মারা যাচ্ছেন ১৫ জন মা। প্রতি বছর জন্মের পর মারা যাচ্ছে ৬২ হাজার নবজাতক। মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর অনেক কারণ রয়েছে। দেশে যেসব কারণে মাতৃত্ব অনিরাপদ হয়ে পড়ে তার মধ্যে অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে দক্ষ নার্স ও মিডওয়াইফের ঘাটতি।

দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত নার্স রয়েছে ৪৬ হাজার। আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুযায়ী চিকিৎসক এবং নার্সের অনুপাত হতে হবে ১:৩। এই হিসাব অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ লাখ নার্সের প্রয়োজন। মিডওয়াইফও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। দক্ষ নার্স ও মিডওয়াইফ তৈরিতে সরকারের সহায়ক নীতিমালা রয়েছে। তবে অবকাঠামো ও দক্ষ শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। দেশের সরকারি-বেসরকারি ৩১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি বছর কমবেশি ১০ হাজার নার্সকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। বিপুল চাহিদার বিপরীতে এ সংখ্যা খুবই কম। মিডওয়াইফ তৈরিতেও দেশ পিছিয়ে আছে। এ জন্য জরুরি হচ্ছে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করা। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেন দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয় সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগও নিতে হবে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক নার্স ও মিডওয়াইফ তৈরি করা গেলে শুধু নিরাপদ মাতৃত্বই নিশ্চিত হবে না, স্বাস্থ্যসেবার সার্বিক মানও উন্নত হবে। বিশেষ করে প্রান্তিক দরিদ্র মানুষের ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবাকে সহজলভ্য করা সম্ভব হবে। এসডিজিতে মাতৃ ও শিশুমৃত্যু কমানোর যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে সে লক্ষ্য অর্জনের জন্যও প্রয়োজনীয় সংখ্যক দক্ষ নার্স ও মিডওয়াইফ চাই।