• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০, ১৭ জিলহজ ১৪৪১, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭

তনু হত্যার তদন্ত কবে শেষ হবে

| ঢাকা , শনিবার, ২১ মার্চ ২০২০

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের পর চার বছর পেরিয়েছে। তনু হত্যা মামলা এখনও তদন্ত পর্যায়েই আটকে আছে। নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করে বলেছেন, তদন্ত কর্মকর্তার কারণেই মামলা গতি পাচ্ছে না। এ নিয়ে গতকাল গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন আহম্মদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, যাদের ডিএনএ নেয়া হয়েছে সেগুলোর প্রোফাইল তৈরি করে ম্যাচিং করা হবে। কাজটি করা হবে নিউইয়র্ক ও ইংল্যান্ডে। এখনও সেই প্রতিবেদন আসেনি। প্রতিবেদন এলে আলামতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরের একটি ঝোঁপ থেকে তনুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যার রহস্য উদঘাটন নিয়ে শুরু থেকেই সংশ্লিষ্টদের কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। তনুর পরিবার অভিযোগ করে আসছিল যে, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। অথচ তার প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ধর্ষণের বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়া হয়। দেশজুড়ে প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে দ্বিতীয় দফায় তার ময়নাতদন্ত হয়। সেখানে যৌন সংসর্গের বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও ধর্ষণের আলামতে মেলেনি। তনুর পরিবার সেই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে। হত্যা মামলার তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এ পর্যন্ত তিনবার তদন্ত কর্মকর্তা বদল করা হয়েছে। বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা দায়িত্ব পেয়েছেন ২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট। সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি তদন্ত শেষ করতে পারেননি। এর আগেও তিনি ডিএনএ রিপোর্ট তৈরি না হওয়ার কারণ দেখিয়েছেন। প্রশ্ন হচ্ছে ডিএনএ রিপোর্ট তৈরি করতে কত বছর সময় লাগে।

তনু হত্যার গতিহীন তদন্তে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, আদৌ এই হত্যা মামলার বিচার হবে কিনা। তনুর মতো মিতু হত্যা, সাগর-রুনি হত্যারও কোন কুলকিনারা হয়নি। চাঞ্চল্যকর এসব মামলার একটিতেও আসামিকে শনাক্ত করা যায়নি। চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোর আসামিদের খুঁজে পাওয়া যায় না নাকি খুঁজেই না- সেটা নিয়ে জনমনে সন্দেহ-সংশয় তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, চাঞ্চল্যকর মামলাগুলো ধামাচাপা দেয়ার জন্যই এসব মামলা তদন্তেই আটক আছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, তনু হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। বাস্তবে সেটা হয়নি।

আমরা বলতে চাই, তনু হত্যার তদন্ত দ্রুত শেষ করে মামলার বিচার করতে হবে। হত্যার সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত থাক না কেন তাদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিতে হবে। পাশাপাশি সাগর-রুনি, মিতু, ত্বকী হত্যার মামলাগুলোরও দ্রুত সুরাহা করতে হবে।