• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ৭ ফল্গুন ১৪২৬, ২৫ জমাদিউল সানি ১৪৪১

ডুবে যাচ্ছে শেয়ারবাজার

| ঢাকা , বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯

শেয়ারবাজারে আরেকটি সম্ভাব্য ধসের শঙ্কামুক্ত হতে পারছেন না বিনিয়োগকারীরা। শুধু বিনিয়োগকারীরাই নয়, ব্রোকারেজ হাউসের মালিক, শেয়ারবাজারে চাকরিজীবী থেকে চাকরিদাতা-স্বস্তিতে নেই কেউই। লাগাতার দরপতনে চোখের সামনে লাখ লাখ টাকা হাওয়া হয়ে যাচ্ছে। জুলাই মাসের প্রথম ১৫ দিনেই ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের লোকসান হয়েছে অন্তত ১৫ হাজার কোটি টাকা। বাজারকেন্দ্রিক যতই প্রণোদনা দেয়া হোক না কেন, বিনিয়োগকারীরা কোনোভাবেই আশ্বস্ত হতে পারছেন না। অতীতে কয়েক দফা ধসের ধাক্কায় বাজারের প্রতি তাদের আস্থাহীনতা চরমে পৌঁছেছে। বাজারে টানা দরপতন যেমন চলছে, তেমনি সমানতালে চলছে বিক্ষোভ।

বস্তুত শেয়ারবাজার নানা সংকটে ঘুরপাক খাচ্ছে। দরপতন রুখতে আগে সংকটগুলো চিহ্নিত করা জরুরি। এটা না হলে কখনও বাজারের এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে না, বরং দিনে দিনে খারাপ হবে। বর্তমান সংকটগুলোর মধ্যে সুশাসনের অভাবই শেয়ারবাজারের প্রধান সংকট। খোদ নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিরুদ্ধেই বাজারের শৃঙ্খলা বিনষ্টের অভিযোগ উঠছে। এ নিয়ে প্রতিদিনই গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হচ্ছে। কিন্তু সংস্থাটি এসব আমলেই নিচ্ছে না। সরকারও তা এড়িয়ে চলেছে। উল্টো সরকারের শীর্ষপর্যায় বাজারের সংকট সমাধানসহ প্রণোদনার আশ্বাস দিয়ে তা বাস্তবায়ন করেনি। আবার প্রণোদনার নামে যেসব উদ্যোগ বা পদক্ষেপ নিয়েছে তা বাজারকে আরও খারাপ করেছে।

শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি অনেক নতুন আইন করছে, আবার পুরনো আইনের বহু সংস্কারও করেছে। তবে এসব সংস্কার বাজারে সুশাসন ফেরাতে কোনো ভূমিকাই রাখছে না। উল্টো স্বার্থান্বেষী মহল ও কারসাজি চক্রকে সুযোগ করে দিচ্ছে। একের পর এক খারাপ কোম্পানির আইপিও দিয়ে বাজার সয়লাব হচ্ছে। বাজারে প্রতিনিয়ত কারসাজি হচ্ছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা এক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনক।

এটা মনে রাখা উচিত যে, পুঁজিবাজারের স্বাস্থ্যের ওপর রাষ্ট্রের অর্থনীতি অনেকাংশে নির্ভরশীল। পুঁজিবাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ধস নামলে অর্থনীতিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও নেতিবাচক।

দরপতনের জন্য সুনির্দিষ্ট করে কোনো কারণকে দায়ী করা যায় না। কিন্তু দরপতন যখন দীর্ঘায়িত হয়, তখন নিশ্চিত করে বলা যায়, কোনো না কোনো কারণে বিনিয়োগকারীদের নতুন করে বিনিয়োগে আস্থা নেই। কেন এ আস্থার সংকট তা বাজার যারা পরিচালনা বা নিয়ন্ত্রণ করেন, তাদেরই খুঁজে দেখা উচিত। অস্বাভাবিক দরপতনের পেছনে কোন মহল বিশেষের অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে। সেক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। ২০১০ সাল থেকে বিরাজমান মন্দা অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়াটি যাতে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের সুদৃঢ় নিয়ন্ত্রণে সুস্থ ধারায় থাকে, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে।

আমরা বাজারকে দীর্ঘ মেয়াদে স্থিতিশীল দেখতে চাই। কাজেই এক্ষেত্রে সাময়িক সাপোর্টের বিষয়টি বিবেচনায় না এনে বরং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের এক্সপোজারসহ অন্যান্য যেসব সমস্যা হচ্ছে; সেগুলো দ্রুত সমাধান করা উচিত। শেয়ারবাজারকে দীর্ঘ মেয়াদে স্থিতিশীলতা দিতে হলে সবার আগে দরকার বিনিয়োগকারীদের আস্থার ভিত শক্তিশালী করা। বাজারের ওপর আস্থা না থাকলে প্রণোদনা দিয়ে বাজারকে খুব বেশিদূর এগিয়ে নেয়া যাবে না।

দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারকে স্থিতিশীল ও বিনিয়োগ আকর্ষণের কেন্দ্রে নিতে হলে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। কারসাজি করে নামমাত্র জরিমানায় কেউ যেন পার পেয়ে না যান, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া ২০১০ সালের ধসের পর খন্দকার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা বাঞ্ছনীয়। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঞ্চয়কে শেয়ারবাজারের মাধ্যমে বিনিয়োগে আনতে হলে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে বড় ধরনের সংস্কার জরুরি।