• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২০ মার্চ ২০১৯, ৬ চৈত্র ১৪২৫, ১২ রজব ১৪৪০

জামায়াত, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল এবং ধর্ম নিয়ে রাজনীতি দ্রুত আইন করে নিষিদ্ধ করুন

| ঢাকা , শনিবার, ১২ জানুয়ারী ২০১৯

জামায়াতে ইসলামীর বিচার শুরু করার লক্ষ্যে আবারও আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। গত বুধবার সচিবালয়ে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ কথা বলেন। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনী তৈরি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছিল। আইনি ভাষা পরিমার্জনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংশোধনীটি আবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে সংশোধনীটি আবার মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান আইনমন্ত্রী। মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধী সংগঠনের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর বিচার করার লক্ষ্যে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বছর পাঁচেক আগেই। পাঁচ মাস তদন্ত শেষে তাড়াহুড়া করে একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে ২০১৪ সালের মার্চে। এরপরই হঠাৎ করে বিচার শুরুর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বলা হয়, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কোন সংগঠনের সাজা কী হবে, সেটা আইনে উল্লেখ নেই। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞ বলছিলেন, আইনে উল্লেখ না থাকলেও আদালত সাজা নির্ধারণ করে দিতে পারেন। তবে বিগত সরকার আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়। আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করলাম, প্রায় পাঁচ বছরেও সাজা কী হবেÑ সে বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসা যায়নি। আমাদের মনে আছে, গণজাগরণের পরিপ্রেক্ষিতে সংসদে দ্রুততার সঙ্গে দল বা সংগঠনের বিচারের সুযোগ রেখে সংশ্লিষ্ট আইনটি পাস হয়েছিল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আইনে সাজা সংক্রান্ত সংশোধনী আনতে পাঁচ বছর অনেক সময়।

অভিযোগ আছে, জামায়াত নিষিদ্ধকরণ প্রশ্নে ক্ষমতাসীন দল রাজনৈতিক কৌশল অবলম্বন করছে। নইলে অনেক আগেই দেশে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ হয়ে যেত। জামায়াত নিষিদ্ধের প্রশ্নে দেশে অনেক আগেই জনমত তৈরি হয়েছে, গণজাগরণ হয়েছে। আদালত জামায়াতকে ক্রিমিনাল সংগঠন আখ্যা দিয়ে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। জামায়াতে ইসলাম ধর্মের নামে সরাসরি য্দ্ধুাপরাধ সংঘটিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। এরপর সরকারের কালক্ষেপণ করা সঙ্গত নয়। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন বাতিল করেছে। আমরা মনে করি জামায়াতের বিচার শুরু করার এটাই উৎকৃষ্ট সময়। আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনী শেষে এটা দ্রুত পাস করা হবেÑ সেটা আমাদের প্রত্যাশা।

জামায়াত নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতিও নিষিদ্ধ করতে হবে। স্বাধীন বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল। সেনাশাসক জিয়া ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করার সুযোগ তৈরি করেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকলেও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়নি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন দলটি চতুর্থ মেয়াদে সরকার গঠন করেছে। আমরা চাইব, এবার ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির সূচনা করা হবে। ১৯৭২ সালে গণপরিষদে সংবিধান পাস করার পূর্বের বক্তৃতায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, এ দেশে ধর্ম নিয়ে আর কেউ রাজনীতি করতে পারবে না। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জিয়াউর রহমান বলেছেন, এখন দেশে পাকিস্তান আমলের মতোই ধর্ম নিয়ে রাজনীতি চলছে। এটা বন্ধ করতে হবে। ধর্মভিত্তিক ও সাম্প্রদায়িক, যুদ্ধাপরাধী দল নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ধর্ম নিয়ে রাজনীতিও আইন করে বন্ধ করতে হবে।