• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭, ১২ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

জনপ্রতিনিধি-জনপ্রশাসন দ্বন্দ্ব কাম্য নয়

| ঢাকা , রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২০

দেশের বিভিন্ন এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে জনপ্রশাসনের দ্বন্দ্ব-সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। তাদের এ দ্বন্দ্বের খবর বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুজিবর রহমান চৌধুরীর বিরোধের ঘটনা ঘটেছে। এর আগেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা বা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌর মেয়রের সঙ্গে স্থানীয় জেলা বা উপজেলা প্রশাসনের দ্বন্দ্বের ঘটনা ঘটেছে। কোন কোন ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার একটি জাতীয় দৈনিক বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

জনপ্রতিনিধি বা জনপ্রশাসন উভয়েরই লক্ষ্য জনকল্যাণ করা। কে কীভাবে জনকল্যাণ করবেন সেটা বিধি-বিধান দ্বারা সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, সংশ্লিষ্টরা এ বিধি-বিধান জানেন কিনা বা জানলেও মেনে চলার প্রয়োজন অনুভব করেন কিনা। অভিযোগ রয়েছে, অনেক এলাকার জনপ্রতিনিধি স্থানীয় প্রশাসনকে তার আজ্ঞাবাহীতে পরিণত করেছেন। যে এলাকায় কোন কর্তাব্যক্তি আজ্ঞা পালনে অনীহা দেখান সেখানেই মূলত তারা জনপ্রতিনিধিদের রোষের শিকার হন। জনকল্যাণে প্রশাসন কী করবে না করবে সেটা কোন কোন ক্ষেত্রে নির্বাহী বিভাগ বা আইন বিভাগ ঠিক করে। কিন্তু আইনে যাই থাকুক বা সরকারের কর্মপরিকল্পনা যাই হোক না কেন স্থানীয় এক শ্রেণীর জনপ্রতিনিধি আপন স্বার্থে প্রশাসন পরিচালনা করেন। এ শ্রেণীর জনপ্রতিনিধি সরকারের উপরে সরকার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। বস্তুত নানা অনিয়ম-দুর্নীতি, দখল, লুটপাট প্রভৃতির লক্ষ্যে তারা স্থানীয় প্রশাসনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চান। এটা স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বন্দ্বের বড় একটি কারণ।

অনেক ক্ষেত্রে উল্টো চিত্রও দেখা যায়। জনপ্রশাসনের অনেক কর্তাব্যক্তি ভুলে যান যে তারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, জনগণের সেবা করাই তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য। চাকরিটা পেয়ে যাওয়ার পর এ শ্রেণীর কর্তারা নিজেদের ভূস্বামী ভাবতে শুরু করেন। জনকল্যাণে যেসব ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে তাদের সমন্বয় করে কাজ করা জরুরি সেখানে তারা সেই সমন্বয় করেন না। এতে দু’পক্ষের দ্বন্দ্ব-সংঘাত তৈরি হয়। প্রসঙ্গক্রমে উপজেলা চেয়ারম্যানদের সঙ্গে ইউএনওদের দ্বন্দ্বের কথা বলা যায়।

জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে জনপ্রশাসনের দ্বন্দ্ব-সংঘাত কোন ভালো বার্তা দেয় না। এমনটা চলতে থাকলে জনকল্যাণই শুধু বিঘিœত হবে না রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দুটি অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। রাষ্ট্রের এক বিভাগের সঙ্গে আরেক বিভাগের দ্বন্দ্ব-সংঘাতের অবকাশ নেই। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। জনপ্রতিনিধিদের পক্ষে জনপ্রশাসনকে আজ্ঞাবাহী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার অপচেষ্টা করা সমীচীন নয়। সরকারকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। যেসব জনপ্রতিনিধি স্থানীয় প্রশাসনের ওপর কর্তৃত্ব কায়েম করেছেন বা করার অপচেষ্টা করছেন তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। জনপ্রশাসনকে আইনের গ-ির ভেতর থেকে বাধাহীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। জনপ্রতিনিধি-জনপ্রশাসন দ্বন্দ্বের অবসান ঘটানো না গেলে সরকারের উন্নয়ন কাজ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।