• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮ ১ রমজান ১৪৪২

চিকিৎসক, পুলিশ ও প্রশাসনের সদস্যদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা কঠোরভাবে নিশ্চিত করুন

| ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২০

নভেল করোনাভাইরাসের কারণে দেশে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় দায়িত্বরত বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং প্রশাসনের সদস্য। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সংবাদ-এর এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, পাঁচ শতাধিক চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ ও প্রশাসনের সদস্য কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তের এই হার দেশের মোট করোনা রোগীর ১৩ শতাংশ। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ব্যবহার করা সত্ত্বেও দায়িত্বরত এত বেশিসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার খবরে পিপিইর মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, সরবরাহকৃত পিপিই মানসম্মত ছিল না।

করোনা রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা, ত্রাণ বিতরণ, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করাসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর আমাদের উদ্বিগ্ন করেছে। যে হারে চিকিৎসক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং প্রশাসনের সদস্যদের মধ্যে সংক্রমিত হচ্ছে তাতে দেশের সেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কোভিড-১৯ সংক্রমণের কারণে ইতোমধ্যে দেশের অনেক চিকিৎসা কেন্দ্র সম্পূর্ণ বা আংশিক বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে এ রোগে আক্রান্ত রোগীদের যেমন অন্যান্য রোগীদের স্বাস্থ্যসেবাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ত্রাণ বিতরণ ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার কাজও বিঘিœত হতে পারে।

স্বাস্থ্যসহ জরুরি অন্যান্য সেবার এই ভগ্নদশার দায় কার সেটা আমরা জানতে চাই। গত ৮ মার্চ দেশে যখন প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হলো তখনই মানসম্মত প্রয়োজনীয়সংখ্যক পিপিই সরবরাহ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। শুরুতে যথেষ্টসংখ্যক পিপিই সরবরাহ করা হয়নি। সমালোচনার মুখে যখন পিপিই সরবরাহ করা হলো তখন এর মান নিশ্চিত করা হয়নি। এখানে নানান অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাত্রই কিছুদিন আগে এন-৯৫ মাস্কের মোড়কে সাধারণ সার্জিক্যাল মাস্ক সরবরাহ করার ঘটনা ঘটেছে।

ঢাল-তলোয়ার না দিয়ে যোদ্ধাকে যুদ্ধক্ষেত্রে ঠেলে দেয়া আর তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া একই কথা। অপর্যাপ্ত বা মানহীন পিপিই দিয়ে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে চিকিৎসক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং প্রশাসনের সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেয়াও একই ব্যাপার। এর ফলে শুধু তাদের জীবনেই ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে না, দেশবাসীও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। ইতোমধ্যে একজন চিকিৎসক ও দুদক কর্মকর্তা করোনা রোগে প্রাণ হারিয়েছেন। অনাকাক্সিক্ষত এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অবশ্যই সংশ্লিষ্টদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক ও মানসম্মত পিপিই সরবরাহ কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি করোনা শনাক্ত করার জন্য আরও বেশি পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। পরীক্ষার অভাবে অনেকের মধ্যে করোনা শনাক্ত করা যাচ্ছে না। উপসর্গহীন রোগীই এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি তৈরি করছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে কোভিড-১৯ রোগ নিয়ে আরও সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। কেউ এ রোগে আক্রান্ত হলে সেটা যেন গোপন না করে- সে বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।