• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবিলায় সার্বিক প্রস্তুতি নিন

| ঢাকা , বুধবার, ২০ মে ২০২০

বাংলাদেশের উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। এটি ইতিমধ্যে ‘সুপার ঘূর্ণিঝড়ে’ পরিণত হয়েছে। চলতি শতাব্দীতে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া এটিই প্রথম সুপার ঘূর্ণিঝড়। এর আগে ২০০৭ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডরও সুপার ঘূর্ণিঝড় ছিল না।

সাধারণত ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২২০ কিলোমিটারের বেশি হলে তাকে সুপার সাইক্লোন হিসেবে ঘোষণা দেয় ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর (আইএমডি)। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতরও একে সুপার ঘূর্ণিঝড় হিসেবে অভিহিত করেছে। সংস্থাটি গত সোমবার রাত ৯টা পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে বলছে, সুপার ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৯০ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৫ থেকে ২৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত হচ্ছে। গত সোমবার রাত ৯টায় আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি মঙ্গলবার রাতের শেষ ভাগ থেকে বুধবার বিকেল বা সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে, সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ সংকেতও বাড়তে পারে।

ঘূর্ণিঝড় আম্ফান প্রবল শক্তি নিয়ে বঙ্গোপসাগর থেকে বাংলাদেশের দিকে মুখ করে এগোচ্ছে। গত এক যুগে বাংলাদেশে যে ক’টি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে, এটি তার মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী। স্বাভাবিক নিয়মে এ ঝড়ের ধ্বংসাত্মক ক্ষমতাও অনেক বেশি হওয়ার কথা। ঘূর্ণিঝড়ের গতি বাড়–ক কিংবা কমুক, এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। বাংলাদেশ সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও আবহাওয়া অধিদফদরের আম্ফানসংক্রান্ত যৌথ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ৫১টি জেলায় আম্পানের প্রভাব পড়তে পারে। তবে উপকূলের ২৪ জেলায় ঝড়ের প্রভাবে ফসল ও জনজীবনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি।

বাংলাদেশকে এখন দুটো ঝড় মোকাবেলা করতে হচ্ছে। একটা হলো করোনা এবং অন্যটি আম্ফান। এ দুর্যোগ একসঙ্গে মোকাবিলা করা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। কাজেই এ প্রয়াসের সঙ্গে স্থানীয় বিত্তবান এবং সম্পদশালীদেরও যুক্ত করা দরকার। তারা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ত্রাণ এবং পুনর্বাসন কাজে ভূমিকা রাখতে পারেন।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সাবধানতা ও প্রস্তুতি নিতে হবে। সাধারণ মানুষকে যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আশ্রয় কেন্দ্রগুলো যেন মানুষজনকে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা যায়, সে লক্ষ্যে এবার আশ্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। আপৎকালীন প্রয়োজনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী, খাদ্য, ওষুধ, পানি ও পোশাক প্রস্তুত রাখতে হবে। দুর্যোগকালীন বিদ্যুৎ না থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হবে। ভেঙে পড়া বৈদ্যুতিক স্তম্ভ ও তার এবং ধারালো বস্তুর ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে।

জলোচ্ছ্বাসের পানির প্রকোপ থেকে রক্ষায় নানারকম শস্যের বীজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে। ৮০ শতাংশ পেকে যাওয়া বোরো ধান কেটে ফেলতে হবে। পরিপক্ব হয়ে ওঠা সবজি, ফল তুলে নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে। মাছের পুকুর ও ঘেরের চারপাশে জাল দিয়ে ঘিরে ফেলতে হবে, যাতে জলোচ্ছ্বাসে মাছ ভেসে না যায়। আর যেসব ফসল কেটে নিরাপদ স্থানে নেয়া যাবে না, সেগুলো মাঠের এক কোনায় উঁচু স্থানে পলিথিন দিয়ে বেঁধে রাখতে হবে, যাতে ভারি বর্ষণে নষ্ট না হয়। জমিতে কীটনাশক, সার প্রয়োগ আপাতত বন্ধ রাখতে হবে।

  • লাইলাতুল কদর

    মাহে রমজান বিশ্বের মুসলমানদের জন্য বিশেষ রহমত ও বরকতের মাস হিসেবে চিহ্নিত।