• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

গুজব ও গণপিটুনি বন্ধে কঠোরভাবে আইনের প্রয়োগ করুন

| ঢাকা , বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯

গুজব ও গণপিটুনির ঘটনা ঘটেই চলেছে। প্রধানত ছেলে ধরার গুজবে এসব গণপিটুনির ঘটনা ঘটছে। গণপিটুনির শিকার হয়ে নারীসহ এ পর্যন্ত কয়েকজন মারা গেছেন, আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। গণপিটুনির শিকার প্রায় সবাই নিরীহ মানুষ। মানসিক ভারসাম্যহীন অনেক ব্যক্তিও গণপিটুনির শিকার হয়েছেন। রাজধানীর বাড্ডায় গণপিটুনিতে তাসলিমা বেগম রেনু নামের এক নারীর মারা যাওয়ার ঘটনা দেশের মানুষকে আন্দোলিত করেছে। সেই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পদ্মা সেতু তৈরিতে মানুষের মাথা লাগবে এমন একটি গুজব কিছু দিন ধরে চালু হয়েছে। সাধারণ মানুষদের একটি অংশ যেমন এ গুজব বিশ্বাস করছে, তেমন একটি চক্র এ গুজবকে তাদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহারও করছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে যে, কোন কোন চক্র উদ্দেশ্যমূলকভাবে ছেলে ধরার গুজব ছড়িয়ে কাউকে কাউকে গণপিটুনি দেয়ার অপচেষ্টা করেছে। সমস্যা হচ্ছে, গুজব নিরসনে সরকারের প্রচেষ্টা সন্তোষজনক নয়। যে কারণে সারা দেশে গুজব বিস্তৃত হয়ে পড়েছে। রাজধানীতেই যদি গুজব ছড়িয়ে পড়ে তাহলে প্রত্যন্ত এলাকার কী অবস্থা হতে পারে সেটা অনুমেয়। সরকার কোন সমস্যাকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে সেই প্রশ্ন উঠেছে। প্রসঙ্গক্রমে ডেঙ্গু রোগের কথা বলা যায়। ডেঙ্গু ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রাজধানীর বাইরেও এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হবিগঞ্জে একজন চিকিৎসক মারা গেছেন।

গোড়াতেই যদি সমাধান করা না যায় তাহলে সাধারণ একটি সমস্যাও যে কত ভয়ংকর রূপ ধারণ করতে পারে তার নজির হচ্ছে ছেলে ধরার গুজব এবং ডেঙ্গুজ্বর। গণপিটুনির অপসংস্কৃতি দেশে চালু আছে বহুদিন ধরেই। আজ হয়তো ছেলে ধরার গুজবে গণপিটুনির ঘটনা ঘটছে। অতীতে দেখা গেছে চুরি, ছিনতাই, সড়ক দুর্ঘটনা প্রভৃতি ঘটনায় উপস্থিত জনতা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পিটুনি দেয়। ঘটনার সত্যতা যাচাই না করে সেই পিটুনিতে অংশ নেয় সাধারণ মানুষ। গণপিটুনির পেছনে জটিল মনস্তাত্ত্বিক অনেক কারণ যেমন রয়েছে, তেমন আইনি কারণও রয়েছে। আইনের প্রতি আস্থা না থাকা এবং আইন সম্পর্কে অজ্ঞতামূলক এ দুই কারণে অনেকেই গণপিটুনিতে অংশ নেয়। মানুষ যখন দেখে যে, প্রকৃত অপরাধী সাজা পাচ্ছে না তখন তারা আইনের ওপর ভরসা করতে পারে না। অভিযুক্ত ব্যক্তি বা অপরাধীকে মেরে ফেলা যে অপরাধ সেটাই জানে না অনেকে। সাধারণ মানুষের আইনি অজ্ঞতা নিয়ে যেমন প্রশ্ন তোলা যায় তেমন তাদের মানবিক মূল্যবোধ নিয়েও প্রশ্ন তোলা যায়। ন্যূনতম মানবিকতা থাকলে মানুষের পক্ষে গণপিটুনিতে অংশ নেয়া সম্ভব নয়। গুজব বা গণপিটুনি কার্যকরভাবে বন্ধ করতে হলে আইনের শাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধের চর্চাও করতে হবে।