• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২৫ রবিউল আওয়াল ১৪৪১

খেলার মাঠে মেলা বা বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড নয়

| ঢাকা , শুক্রবার, ০৮ নভেম্বর ২০১৯

মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন রোডসংলগ্ন খেলার মাঠটিতে আবার মেলা বসেছে। সপ্তাহখানেক আগে মাঠ থেকে মেলা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার বাসিন্দারা। এলাকার জনৈক বাসিন্দা বলেছেন, মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ, যারা এ মেলা থেকে আর্থিক সুযোগ-সুবিধা নেন তারা থানা-পুলিশ ম্যানেজ করে মেলা বসাচ্ছেন। মেলা বসানোর কারণে মাঠের আশপাশের বাসিন্দারা বিপাকে পড়েছেন।

জানা যায়, কয়েক বছর ধরে সপ্তাহে প্রতি বৃহস্পতিবার জাকির হোসেন রোডসংলগ্ন খেলার মাঠে মেলা বসছে। গত বছর ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা খরচ করে মাঠটি সংস্কার করা হয়। তখন কিছুদিন মেলা বন্ধ ছিল। সংস্কারের পর মাঠে সবুজ ঘাসও লাগানো হয়েছিল। সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার কয়েকদিন পরেই আবারও মাঠে মেলার আয়োজন শুরু হয়। এতে মাঠের ঘাসগুলো নষ্ট হয়ে যায়।

শুধু খেলার মাঠেই নয়, অনেক স্কুলের খেলার মাঠেও মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। মাসের পর মাস ধরে চলে এসব মেলা। খেলার মাঠে মেলা ছাড়াও বিভিন্ন স্থাপনা, বিপণিবিতান, দোকানপাট এবং গাড়ির হাটও বসানো হয়। সমাজের অর্থলোভী কিছু মানুষ সরকারি আইন বা বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করেই নামমাত্র প্রশাসনিক অনুমতি নিয়ে খেলার মাঠে মেলা নামের টাকা আয় করার মেশিন বসায়। এক শ্রেণীর অসাধু মানুষ টাকার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করে মাঠে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস মেলা চালায়। এতে করে মাঠের পরিবেশ এতটাই খারাপ হয় যে পরবর্তী সময়ে খেলাধুলার প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়ে। মাঠের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। মেলার আশপাশের মানুষেরও দুর্ভোগের শেষ থাকে না। খেলার মাঠ দখল অর্থলোভী ব্যক্তিদের বাণিজ্যিক তৎপরতা শিশু-কিশোরদের খেলার অধিকার হরণ করছে। এর ফলে শৈশব থেকেই বিপথগামী হওয়ার সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।

মানুষের সুস্থ জীবনের জন্য বিনোদনের ভূমিকা অপরিহার্য। মেলা হোক তবে সেটা খেলার মাঠে বা স্কুলের মাঠে যেন না হয় এবং সরকারি বিধি-নিষেধ মেনে যেন হয়। খেলার মাঠে খেলাধুলা হবে এটাই স্বাভাবিক। মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন রোডের এ খেলার মাঠটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীনে।

সুতরাং, সিটি করপোরেশনকেই এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে। খেলার মাঠ থেকে স্থায়ীভাবে মেলা অপসারণ করে সেটা শিশু-কিশোরদের খেলার জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে। এটি যেন আর দখল না হয়, সেটাও নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে। রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের অধীনে অন্যান্য যেসব খেলার মাঠ অবৈধভাবে দখল করে রাখা হয়েছে, সেগুলোও স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত করতে হবে।