• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ১৩ সফর ১৪৪২, ১৬ আশ্বিন ১৪২৭

খিচুড়ি রান্না শেখার জন্য বিদেশে যেতে হবে কেন

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

খিচুড়ি কীভাবে রান্না এবং বিতরণ করতে হয় সে বিষয়ে ধারণা নিতে এক হাজার কর্মকর্তাকে পর্যায়ক্রমে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তাব করেছে শিক্ষা অধিদফতর। স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় এ প্রস্তাব করা হয়। এ কর্মসূচির অধীনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে খিচুড়ি বিতরণের কথা রয়েছে। এ কাজের লক্ষ্যে কীভাবে বাজার থেকে দ্রব্যাদি কিনতে হয়, রান্নার পদ্ধতি এবং বিতরণের উপায় সম্পর্কে ধারণা নিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর, পরিকল্পনা কমিশন এবং বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের প্রস্তাব করা হয়। এজন্য প্রাথমিকভাবে ৫ কোটি টাকা চাওয়া হয়। এদিকে গণগ্রন্থাগার অধিদফতরের জন্য কী ধরনের ভবন নির্মাণ করা হবে সেটা দেখতে ৩০ কর্মকর্তার বিদেশ সফরের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এতে ব্যয় হবে সাড়ে ৬ লাখ টাকারও বেশি।

বাজার করা, খিচুড়ি রান্না করা এবং বিতরণ করার জন্য বিদেশে প্রশিক্ষণ নেয়ার প্রয়োজন কেন পড়ল সেটা আমাদের বোধগম্য নয়। অতীতেও আমলাদের মধ্যে ফালতু বিষয়ে ‘জ্ঞান’ অর্জন বা ‘প্রশিক্ষণ’ গ্রহণের আগ্রহ দেখা গেছে। গরুর প্রজনন, আলু চাষ, পুকুর খনন, লিফট দেখা, ফল উৎপাদনের মতো বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে তারা বিদেশে যেতে উদ্যোগী হয়েছেন। তাদের কোন কোন উদ্যোগ সাফল্যের মুখ দেখেছে অর্থাৎ তারা বিদেশে সফর করতে পেরেছেন। জনগণের অর্থ চুরির জন্য এক শ্রেণীর আমলা উদ্ভট সব ফিকির করেন। কীভাবে বাজার করতে হয় বা খিচুড়ি রান্না করতে হয় সেটা তারা না জানলেও চুরি-দুর্নীতি কীভাবে করতে হয় সেটা ঠিকই জানেন। যারা সারা জীবনে বাজার করতে শেখেনি তারা চুরি-দুর্নীতি শেখে কীভাবে সেটা গবেষণার বিষয়।

জনগণের করের টাকা আমলাদের মাঝে নির্দিষ্ট সময় পরপর নির্দিষ্ট হারে ভাগ করে দেয়ার নিয়ম থাকলে বরং ভালো হয়। বেতনের টাকা তো তারা নেবেনই, তার সঙ্গে উপরি হিসেবে বিশেষ বরাদ্দও যেন তারা পান। সেটা হলে আমলাদের আর ‘উর্বর মস্তিষ্ক’ খাটিয়ে বিদেশ সফরের নাটক মঞ্চস্থ করতে হবে না। উপরি হিসেবে পাওয়া বিশেষ বরাদ্দের টাকা পকেটে পুরে তারা নিজ নিজ আবাসস্থলে থেকে বাজার করতে পারবেন, গরুর প্রজনন দেখতে পারবেন বা যার যে বিষয়ে ধারণা নেয়া প্রয়োজন সে বিষয়ে ধারণা নিতে পারবেন। পুকুর খনন দেখতে পারেন, লিফট দেখতে পারেন, ভবন দেখতে পারবেন যার যা খুশি তাই করতে পারবেন। চুরি-দুর্নীতিতে সিদ্ধহস্ত যেসব আমলা তাদের এটুকু সুবিধা সদাশয় সরকার দিতেই পারে।

মহামারী করোনার মধ্যে কীভাবে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা যায়, জনগণকে ভালো রাখা যায় সেটা নিয়ে সরকার চিন্তিত। আর এক শ্রেণীর আমলা এ মহাসংকটের মধ্যেও জনগণের অর্থ চুরির ফিকির করছে। সাধারণ ছুটিতে ঘরে বসে বসে বেতন-ভাতা পেয়েও এ শ্রেণীর আমলার খায়েশ মেটেনি। এ শ্রেণীর আমলা দিয়ে আর যাই হোক, জনগণের কল্যাণ হবে না। এ শ্রেণীর আমলা সম্পর্কে সরকারকে আমরা সতর্ক করতে চাই। জনগণের টাকা লুট করার জন্য দুর্নীতিগ্রস্ত আমলারা যে ফন্দি-ফিকির করেন সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।