• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬, ৩০ রজব সানি ১৪৪১

ক্ষুধা সূচকে অবনমন প্রসঙ্গে

| ঢাকা , শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯

বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান দুই ধাপ পিছিয়েছে। গত বছর ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশ ৮৬তম অবস্থানে ছিল, এবার রয়েছে ৮৮তম অবস্থানে। নেপাল, মায়ানমার এবং শ্রীলংকার চেয়েও পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। ক্ষুধা সূচকের তালিকাটি করেছে ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট। অপুষ্টি, ৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে কম ওজনের শিশু, ৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে কম উচ্চতার শিশু এবং ৫ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যু- এই চারটি মাপকাঠিতে সূচক তৈরি করেছে। ১০০ পয়েন্টের মধ্যে ২৫ দশমিক ৮ পয়েন্ট পেয়ে বাংলাদেশ ‘তীব্র ক্ষুধাপীড়িত’ দেশের কাতারে স্থান পেয়েছে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী, একটি শিশুর প্রতিদিনের গ্রহণ করা খাদ্যের পুষ্টিমান গড়ে ১৮০০ কিলোক্যালরির কম হলে সেটি ক্ষুধা হিসেবে বিবেচিত হয়। একটা সময় ছিল যখন বাংলাদেশে ক্ষুধা সূচকে ভীতিকর দেশের তালিকায় পড়ত। সেই অবস্থা থেকে বাংলাদেশ বেরিয়ে এসেছে অনেক আগেই। তবে গত কয়েক বছর ধরে ‘তীব্র ক্ষুধাপীড়িত’ দেশ হিসেবেই রয়ে গেছে। ক্ষুধা নির্মূলের কাজে গতি শ্লথ হয়ে গেছে। দেশে বছর বছর প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। অথচ কাক্সিক্ষত হারে ক্ষুধা হ্রাস পায়নি। কেবল ক্ষুধাই নয় দারিদ্র্য নির্মূলের কাজও শ্লথ হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, দারিদ্র্যসীমা পেরোনো বহু মানুষ আবারও দরিদ্র হয়ে পড়তে পারেন। দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির সঙ্গে যা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল সুষমভাবে সবাই ভোগ করতে পারছেন না। উন্নয়নের ফসল একটি গোষ্ঠী ভোগ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আয় বৈষম্য বেড়েছে। দেশের সবচেয়ে গরিব ৫ শতাংশ পরিবারের মাসিক গড় আয় মাত্র ৭৪৬ টাকা। এর বিপরীতে সবচেয়ে ধনী ৫ শতাংশ পরিবারের গড় আয় ৮৯ হাজার টাকা। দেশের মানুষের মোট আয়ের প্রায় ২৮ শতাংশই রয়েছে ধনিক শ্রেণীর হাতে।

৭৪৬ টাকা দিয়ে একটি পরিবার একটি শিশুর জন্য ১৮০০ ক্যালোরির খাবার যে নিশ্চিত করতে পারবে না সেটাই স্বাভাবিক। আর বৈষম্যের কারণে দেশকে ক্ষুধামুক্ত বা দারিদ্র্যমুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।

সরকার ঘরে ঘরে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেয়ার কথা বলছে। কিন্তু ক্ষুধা সূচক বলছে, বহু মানুষের ঘরে উন্নয়নের সুফল পৌঁছায়নি। উন্নয়নের পাশাপাশি বৈষম্য কমানো জরুরি। এজন্য দুর্নীতি নির্মূল করা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। ধনী-দরিদ্র বৈষম্য কমাতে হবে। শহর ও গ্রামের মধ্যে নাগরিক সুযোগ সুবিধার ব্যবধান কমাতে হবে। সরকারের সব বিভাগকে জনকল্যাণমুখী করতে হবে। তাহলে উন্নয়নের সুফল আরো বেশিসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছবে।