• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১২ ফাল্গুন ১৪২৭ ১২ রজব ১৪৪২

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে আরও কম সুদে ঋণ দেয়ার কথা ভাবতে হবে

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২০

ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থার (এমএফআই) ঋণের সুদ হার সর্বোচ্চ ২৪ শতাংশ। এখন করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিতে পড়া গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ২৪টি এমএফআই ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দিতে সম্মত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তহবিল থেকে ৩ শতাংশ ঋণ পাবে এসব সংস্থা। এর ফলে প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষতিগ্রস্ত নিম্ন আয়ের পেশাজীবী, কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রথমবারের মতো কম সুদে ঋণের সুযোগ পাবেন। সারা দেশে এ ২৪টি এমএফআইয়ের সদস্য প্রায় ৩০ লাখ।

আর এমএফআইদের ঋণ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তহবিল থেকে অর্থ নিতে চুক্তি করেছে সরকারি-বেসরকারি ১৯টি ব্যাংক। এ সব সংস্থা ও ব্যাংকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ৩ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, এই তহবিল থেকে এই ঋণ দেয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ১ শতাংশ সুদে ব্যাংকগুলোকে ঋণ দিবে, আর ব্যাংকগুলো ৩ শতাংশ সুদে দেবে এমএফআইকে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী পাবে ৯ শতাংশ সুদে।

এটা ভালো উদ্যোগ যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কম সুদে ঋণ পাবে। করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি স্বাভাবিক করতে এ উদ্যোগ। প্রায় ৩ কোটি মানুষ এমএফআই থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করে। এর ফলে তারা স্বল্প সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবে, যা তাদের ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করবে। আমরা আশা করব, এতে গ্রামীণ অর্থনীতি আবারও চাঙ্গা হয়ে উঠবে।

সুদের অঙ্ক ৯ শতাংশ কেন হচ্ছে সেটাই আমাদের প্রশ্ন। ব্যাংকগুলো ৩ শতাংশ সুদে সংস্থাগুলোকে ঋণ দিচ্ছে আর সংস্থাগুলো ৬ শতাংশ মুনাফা ধরে রেখে ৯ শতাংশ সুদে সেটা প্রান্তিক মানুষকে দিচ্ছে। যে ঋণে প্রান্তিক মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত, যার মাধ্যমে তারা বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা পাবে, বেকারত্ব ঘুচবে, কর্মসংস্থান হবে, সে ঋণে ৬ শতাংশ মুনাফা ধরে রাখা কতটা যৌক্তিক। পরিচালন ব্যয়ের জন্য যতটুকু দরকার ততটুকুই কি দুর্যোগকালীন সময়ে যথেষ্ট নয়? বাংলাদেশ ব্যাংকের তহবিল থেকে ঋণ দেয়া হচ্ছে, অথচ তারা কি এই মুনাফার অঙ্কটি গুনে দেখেনি? এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি? নাকি ১ শতাংশ সুদে ঋণ দেয়াই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজ। ১ শতাংশ ঋণ যে হাত ঘুরে ৯ শতাংশ হবে, সেই ৯ শতাংশ সুদ যে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের ঘাড়ে এসে নামবে, সেটা দেখার দায়িত্ব তাদের নয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ ধরনের অবিবেচক আচরণ আমাদের হতাশ করে। আমরা আশা করব, এক্ষেত্রে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাবে এবং প্রান্তিক মানুষের দুর্দশা নিবারণের চিন্তাই তাদের প্রধান বিবেচ্য হবে। সুদের হার ৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে আনা যায় কিনা- তা নিয়ে অবশ্যই ভাবতে হবে। এ ব্যাপারে ঋণ প্রদান এবং বণ্টনকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসতে হবে।

এবার যেহেতু কম সুদে তহবিল দেয়া হচ্ছে, তাই তদারকি জোরদার করতে হবে। যাতে বেশি ক্ষতিগ্রস্তরা এই ঋণ পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। দেখতে হবে, যাদের জন্য এই ঋণ, তারা পাচ্ছেন কিনা। কারণ, এমএফআইগুলো যেখানে কম ঝুঁকি, সেখানে এই ঋণ দেবে। এতে প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে।