• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ১৮ি জিলহজ ১৪৪১, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান নিয়ে সন্দেহ-সংশয় দূর করুন

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৩ অক্টোবর ২০১৯

সাবেক তিন মন্ত্রী, একজন বর্তমান মেয়র এবং পাঁচজন এমপি ক্যাসিনো বাণিজ্যে জড়িত বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। গত বুধবার প্রকাশিত একটি জাতীয় দৈনিক এ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অনেক কেন্দ্রীয় নেতাও ক্যাসিনো বাণিজ্যে সম্পৃক্ত। ক্যাসিনো বাণিজ্যের গডফাদারদের ধরা হবে কিনা সেটা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে বলে খবরে প্রকাশ পেয়েছে।

গত মঙ্গলবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরেছেন। তিনি দেশে ফেরার পর ক্যাসিনো বাণিজ্যের গডফাদারদের কী পরিণতি হয় সেটা দেখার অপেক্ষায় আছেন নাগরিকরা। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনো ব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। এ বাণিজ্যের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের বড় বড় নেতা যুক্ত বলে গুঞ্জন রয়েছে। অনেকে বলছেন, চলমান অভিযান জোরদার করা হলে প্রকৃত গডফাদারদের স্বরূপ উন্মোচিত হবে। কিন্তু অভিযুক্ত এক যুবলীগ নেতাকেই গ্রেফতার করেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ অবস্থায় গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাবে কিনা সেটা নিয়ে জনমনে সন্দেহ-সংশয় দেখা দিয়েছে। সংশয়বাদীরা বলছেন, মাদকবিরোধী বাণিজ্যে গডফাদারদের ধরা হয়নি। মধ্যম সারির মাদক ব্যবসায়ী, দালাল, ক্রেতাদের ধরা হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযান এখনও চলছে, মাদক বাণিজ্যও চলছে। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানও একই পরিণতি পায় কিনা সেটা দেখার অপেক্ষায় আছে মানুষ।

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান নিয়ে সন্দেহ-সংশয় দূর করার দায়িত্ব সরকারের। আইন নিজের গতিতে চললে বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বিঘেœ কাজ করতে পারলে জানা যাবে যে ক্যাসিনো বাণিজ্যে কে বা কারা জড়িত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে নির্বিঘেœ কাজ করতে পারছে না সেটা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেই বোঝা যায়। তারা যুবলীগের অভিযুক্ত এক নেতাকে এখনও গ্রেফতার করেনি। আওয়ামী লীগ, যুবলীগের প্রভাবশালী কোন কোন নেতা প্রকাশ্যেই র‌্যাব-পুলিশকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। যে কারণে চলমান অভিযানের পরিণতি নিয়ে মানুষের মধ্যে সন্দেহ-সংশয় দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় সবাই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার দিকে তাকিয়ে আছেন। আমরা আশা করব, প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন। আইনকে নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে। অপরাধী যে বা যারাই হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনের যেন সিলেক্টিভ প্রয়োগ না হয় সেটা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে আইনের সুশাসন নিশ্চিত করতে এটা করা জরুরি।

দুর্নীতিবিরোধী চলমান অভিযান নিয়ে সরকারের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তি যার যার মতো করে বক্তব্য দিচ্ছেন। এর ফলে গুঞ্জনের ডালপালা আরও বিস্তৃত হচ্ছে। দায়িত্বশীল যে কোন একজনকে দায়িত্ব দেয়া হলে সরকারের অবস্থান কি সেটা মানুষের সামনে স্পষ্ট করা সহজ হবে।