• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

কোভিড-১৯ : উপজেলা পর্যায়ে নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করুন

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২০

দেশে কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বাড়ছে মৃত্যুও। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত বুধবার পর্যন্ত যে তথ্য দিয়েছে তা থেকে জানা যায, দেশে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৮ হাজার মানুষ নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের শিকার হয়েছেন এবং মারা গেছেন ২৬৯ জন। এ সময়ের মধ্যে করোনাভাইরাস পরীক্ষার আওতায় এসেছে ১ লাখ ৪৪ হাজারের কিছু বেশি মানুষ।

নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধের মোক্ষম হাতিয়ার কী সেটা নিয়ে বিতর্ক আছে। যতদিন না ভ্যাকসিন আবিষ্কার হচ্ছে ততদিন লকডাউন চালিয়ে যাওয়া বা সামাজিক দূরত্ব কঠোরভাবে নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে একদল মানুষ। আবার অনেকে বলছেন লকডাউন দিয়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ক্ষত হয়তো কমানো যাবে, তবে একে শেষপর্যন্ত এড়ানো যাবে না। লকডাউন করা বা না করা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এটা নিয়ে কোন বিতর্ক নেই যে, ব্যাপক হারে পরীক্ষা করে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে হবে। বাংলাদেশে শুরু থেকেই নমুনা পরীক্ষার গতি ধীর। আমরা দেখছি যে, নারায়ণগঞ্জ বা গাজীপুরের মতো হটস্পটগুলোতে দীর্ঘদিন নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা ছিল না। আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি- ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত কোভিড-১৯ রোগ শনাক্ত করার ব্যবস্থা রাখা জরুরি। অন্তত প্রতিটি উপজেলায় এ ব্যবস্থা থাকা উচিত। সরকার প্রতিদিন ১০ হাজার নমুনা পরীক্ষার টার্গেট নিয়েছে। কিন্তু এখনও তাতে সফল হয়নি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭ হাজার নয়শ’ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে হলে প্রতিটি নাগরিককেই পরীক্ষার আওতায় আনতে হবে। সন্দেহভাজন বা সন্দেহের ঊর্ধ্বে একজন নাগরিকের একাধিক সময়ে একাধিকবার পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। অচিরেই এটা অলঙ্ঘনীয় বাস্তবতায় পরিণত হতে পারে বলে আমরা মনে করি। এক্ষেত্রে সরকারের প্রশ্নটি যে অপ্রতুল সেটা বলাবাহুল্য। জানা গেছে, চীনে কেবল উহান শহরেই ১০ দিনে ১ কোটি মানুষের নমুনা পরীক্ষা করেছে। এর বিপরীতে বাংলাদেশে নমুনা পরীক্ষার চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক। শিগগিরই যে এই চিত্রের ইতিবাচক পরিবর্তন হবে সেই আশাও করা যাচ্ছে না। কারণ কোভিড-১৯ রোগ পরীক্ষার জন্য দেশে প্রয়োজনীয় ল্যাব নেই, টেকনোলজিস্ট নেই। ল্যাব বাড়ানোর কাজে গতি নেই। প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক টেকনোলজিস্ট তৈরির কাজে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ৮ মার্চ প্রথম করোনাভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্তের পর দুই মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এ সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কী করেছে, সেটা আমরা জানতে চাই।

আমরা বলতে চাই, সরকারকে অন্তত উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ল্যাব স্থাপনের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। দ্রুত প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনবল তৈরি করতে এ নিয়োগ দিতে হবে। নমুনা পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের যথেষ্ট সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। দেশে এমন একটি ব্যবস্থা অচিরেই চালু করতে হবে, যাতে যে কোন নাগরিক যে কোন সময় নভেল করোনাভাইরাস পরীক্ষা করতে পারে।