• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ৬ জৈষ্ঠ্য ১৪২৫, ১৪ রমজান ১৪৪০

কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করুন

| ঢাকা , শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

ফের বেপরোয়া হয়ে উঠছে কোচিং সেন্টারগুলো। এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ায় কোচিং সেন্টারবিরোধী সরকারের অভিযানও কার্যত স্থগিত রয়েছে। এ সুযোগে নতুন করে কোচিং বাণিজ্যে লিপ্ত হয়েছেন সরকারি-বেসরকারি শিক্ষক ও কোচিং সেন্টারের মালিকরা। রাজধানীর বিভিন্ন অলিগলির দেয়ালে নিয়মিত সাঁটানো হচ্ছে কোচিং সেন্টারের প্রচারণার পোস্টার, বিলবোর্ড ও সাইনবোর্ড। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান না থাকায় স্কুলশিক্ষকরাও জোরেশোরে কোচিং কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এ অবস্থায় দিশেহারা অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীরা।

প্রাইভেট টিউশনি ও কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে এবং কীভাবে করতে হবেÑ তা নিয়ে দীর্ঘদিন থেকেই অনেক আলাপ-আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বর্তমানে আমাদের শিক্ষা যে একটি কোচিং রাজ্যে বসবাস করছে, তা নতুন করে বলে দিতে হয় না। অলিতে গলিতে নানা ধরনের কোচিং সেন্টারের উপস্থিতিই তার জানান দেয়। নিয়ন্ত্রণহীনভাবে গড়ে ওঠা এ বিপুলসংখ্যক কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট পড়ানোর স্থানগুলো ছাত্রছাত্রীদের যে জিম্মি করে ফেলছে তা সুস্পষ্ট।

এ কথা বারবার বলা হয়েছে, শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকরা যদি পাঠ্যপুস্তক অনুযায়ী বিশ্লেষণ ও বোঝানোর মাধ্যমে যথাযথভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতেন, তবে শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে গাইড বই পড়া ও কোচিং করার কোন প্রয়োজন হতো না। পড়া বোঝার জন্য শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত হতে অনেক বেশি আগ্রহী হয়ে উঠত। দুঃখের বিষয়, একশ্রেণীর শিক্ষক এ কাজটি সঠিকভাবে করছেন না। তারা শ্রেণীকক্ষে নামমাত্র উপস্থিত হয়ে সঠিক পাঠদানের পরিবর্তে তাদের কাছে প্রাইভেট পড়ার জন্য প্রচ্ছন্নভাবে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিয়ে থাকেন। কোন কোন স্কুলের শিক্ষকরা তো শিক্ষার্থীদের এমন ধারণা দিয়ে থাকেন- তাদের কাছে প্রাইভেট না পড়লে ভালো ফল করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। এসব শিক্ষক নিজেদের কাছে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়তে তো উৎসাহী করে তোলেনই, তার ওপর নির্দিষ্ট প্রকাশনীর গাইড বই অনুসরণ করার কথাও বলেন। এর ফলে বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের কোচিং ও গাইড বই অনুসরণ করতে হয়। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর নিজস্ব বোধবুদ্ধি ও মননের চর্চা বলতে কিছু হয় না। তাদের জ্ঞান নির্দিষ্ট ছক ও মুখস্ত বিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

কোচিং বন্ধে নীতিমালা হয়েছে, সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বড় বড় কোচিং সেন্টারে দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযানও পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু কোনভাবেই তা বন্ধ করা যায়নি, বরং অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কক্ষ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে কোচিং বাণিজ্যের লাইসেন্স পেয়েছে সংশ্লিষ্টরা। সারা দেশে যখন কোচিং বন্ধের তোড়জোড় শুরু হয়, তখন ভাড়া বাসায় কোচিং বন্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করলে প্রকারান্তরে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কক্ষ ও সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে রমরমা কোচিং বাণিজ্য শুরু হয়েছিল, যা এখন আরও ব্যাপকতা পেয়েছে। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ক্ষমতাসীন দলের অনুসারীরাও প্রভাব খাটিয়ে নিজ নিজ এলাকায় কোচিং সেন্টারের নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। প্রচলিত নীতিমালা ও নির্দেশনার দুর্বলতা কিংবা তা বাস্তবায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদাসীনতার কারণেই আজ পর্যন্ত কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করা যায়নি।

আমরা চাই না, কোচিং বন্ধের বিধানটি প্রচলিত অন্যান্য বিধি-বিধানের মতো অকার্যকর হয়ে উঠুক। আইনের প্রয়োগে সরকারকে অবশ্যই কঠোর হতে হবে। এক্ষেত্রে কোন পক্ষকেই ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। আমরা সব ধরনের কোচিং বাণিজ্যই বন্ধ দেখতে চাই। কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হবে। তারা শিক্ষার্থীদের পাঠদানে অবহেলা করছেন কি না, প্রতিদিন স্কুল বা কলেজে হাজির হন কি না, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোচিং সংক্রান্ত নীতিমালা লঙ্ঘন করা হচ্ছে কি না, দালিলিক প্রমাণসহ এসব তথ্য সংগ্রহ করা উচিত। এ ব্যাপারে সরকারকে আরও সতর্ক হতে হবে। যারা ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে কোচিং সেন্টার খুলে শিক্ষা বাণিজ্য করছে এবং যারা সরকারের বেতনভাতা নিয়ে শ্রেণীকক্ষে পাঠদান না করে ছেলেমেয়েদের প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করছেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। বিদ্যালয়েই সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার মান বাড়াতে হলে প্রথমে শিক্ষকদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তাদের ক্লাসের প্রতি মনোযোগী করতে হবে। সেই সঙ্গে কোচিংয়ের প্রতি তাদের নিরুৎসাহিত করতে হবে।