• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

করোনাভাইরাস : আতঙ্ক নয়

কার্যকর প্রতিরোধ-প্রস্তুতিই কাম্য

| ঢাকা , শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২০

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বা বিশ্বব্যাপী ‘মহামারীর’ আশঙ্কা থেকে দেশে প্রতিরোধের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার বলছে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশংকা থেকে সব ধরনের জরুরি প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে মোকাবিলার জন্য। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন সরকারি পরিককল্পনায় যেমন রয়েছে ত্রুটি তেমনি রয়েছে সমন্বয়হীনতা। বিশ্বের প্রায় ৮১টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়াসহ সব মহাদেশেই ছড়িয়ে পড়েছে মারাত্মক এই ভাইরাস। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় লক্ষ, মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বব্যাপী ২৯ কোটিরও বেশি শিশু স্কুল যাওয়া থেকে বিরত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্পকারখানা। মারাত্মক এই ভাইরাস আক্রমণের কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কোন কোন বিশেষজ্ঞ।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বাংলাদেশের ইনস্টিটিউট ও এপিডেমাইওলজি, রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং গবেষণা (আইইডিসিআর) প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক বুধবার বলেছেন, চীনসহ ৮০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮টি দেশে আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। সুতরাং বাংলাদেশসহ কোন দেশই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে মুক্ত নয়।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত আক্রান্ত কাউকে পাওয়া না গেলেও আমাদের প্রতিরোধের জন্য সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে। এদিকে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা আংকটাড করোনাভাইরাস এর কারণে বাণিজ্যিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ২০টি দেশের যে তালিকা প্রকাশ করেছে তার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরকার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি করলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে পরিকল্পিত কাজ খুব বেশি অগ্রসর হচ্ছে না বলে মিডিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে রোগ বিস্তারের হার মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য যন্ত্রপাতি এবং প্রতিরক্ষামূলক উপায়সমূহের স্বল্পতা রয়েছে।

অবশ্য আশঙ্কার মধ্যেও আশার কথাও রয়েছে প্রায় ১ লক্ষ আক্রান্ত হলেও অসমর্থিত সূত্রের খবর হচ্ছে ৪০ হাজারের বেশি ইতোমধ্যেই সুস্থ হয়েছেন। কোন শিশু আক্রান্ত হওয়ার খবর জানা যায়নি, কিশোর, তরুণ এবং যুবকদের মধ্যে আক্রান্তের হার কম। মৃতের হার সত্তরোর্ধদের মধ্যে সর্বাধিক।

বাংলাদেশে সরকারের গৃহীত সর্বোচ্চ প্রতিরোমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা করোনাভাইরাসের বিস্তৃতি রোধে কার্যকর হতে পারে বলে আমরা মনে করছি। সরকারের গৃহীত ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে বিদেশ থেকে আগতদের স্ক্রিনিং, রোগ শনাক্তকরণ, কোয়ারেনটাইন স্থাপন এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ব্যাপক জনসচেতনতা কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আমরা মনে করি এ নিয়ে ‘প্যানিক’ বা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে দিশেহারা হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। সরকারের গৃহীত ব্যবস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করার পাশাপাশি ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিকভাবে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সর্বদা বজায় রাখতে হবে।